বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাস ও পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বন্দর ব্যবহারকারীদের বৈঠক

| শুক্রবার , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস ও পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে গতকাল নগরীর আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন কার্যালয়ে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনসমূহের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী।

সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. সাইফুল আলম বলেন, মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে এই জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজান এলেই কেন পরিবহন ভাড়া ও পণ্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তার কারণ অনুসন্ধান করে সমাধানের পথ বের করতে হবে। সকল স্টেকহোল্ডার সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দ্রুত পণ্য খালাস, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী বলেন, দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সকল অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একছাতার নিচে এসে কাজ করতে হবে এবং একটি ব্যবসাবান্ধব বন্দর গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সাহেদ ছরওয়ার বলেন, সকল সেক্টরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন জরুরি, যা সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে কাজ করবে। বিকডার মহাসচিব মোঃ রুহুল আমিন সিকদার বলেন, অফডকগুলোতে সক্ষমতার তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং কম হচ্ছে। বন্দরে স্ক্যানিং বিলম্বের কারণে অফডকে কন্টেইনার পৌঁছাতে দেরি হয়। স্ক্যানিং এর পরিবর্তে অফডকে খালাসকালে পণ্য পরীক্ষা করা হলে ডেলিভারি দ্রুততর হবে। অফডক পোর্ট লিংক লজিস্টিকস লি. এর সিইও দৌস মোহাম্মদ বলেন, অফডকের শ্রমিক এসোসিয়েশন বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়সময় ট্রেইলার থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রাখে। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্টস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদ জানান, নতুন জাহাজ নির্মাণ না হওয়ায় লাইটারেজ জাহাজের ঘাটতি রয়েছে, ফলে খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

কাভার্ডভ্যান ওনার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দরের কর্মবিরতি ও জাতীয় নির্বাচনের ছুটির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় পণ্য খালাসের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেক মালিক নতুন গাড়ি কিনেননি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী গাড়ির যোগানে ঘাটতি থাকায় ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব করেন। শিপ হ্যান্ডলিং এন্ড বার্থ অপারেটরস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর আলম স্বপন বলেন, বিগত ১৭ বছরের বন্দরের অনিয়ম এখনও বিদ্যমান। লাইটারেজ জাহাজ সংকটের কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এর সাথে সিন্ডিকেট জড়িত কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।

আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, পণ্য আনলোডিং এ দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় গাড়ির সংকট তৈরি হয় এবং এতে ভাড়া বৃদ্ধি পায়। দ্রুত আনলোডিং নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট কমবে। বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির জন্য মালিকরা নয়, বরং মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট দায়ী। তাদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দরের জনবল কাঠামোর তুলনায় কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিলে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা, পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি মনিটরিং সেল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরমজানে গর্ভবতী নারীদের করণীয় : চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ
পরবর্তী নিবন্ধপ্রমার বসন্তবরণ উৎসব