পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম আরো গতিশীল ও নির্বিঘ্ন রাখতে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংগঠনের সমন্বয়ে একটি কো–অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রমে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে ‘চট্টগ্রাম পোর্ট সার্ভিস প্রোভাইডারস কো–অর্ডিনেশন সেল’ নামে এই সমন্বয় সেল গঠন করা হয়।
গতকাল শনিবার নগরীর আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ টাওয়ারে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক করে কো–অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়।
এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিপিং অফিস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, মো. দিদারুল আলম, মো. আনোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো–অর্ডিনেশন সেলের প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদ, শিপ হ্যান্ডেলিং অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মসিউল আলম স্বপন, বিকডার প্রতিনিধি মো. এমরান মিয়া চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাভার্ড ভ্যান ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আজিজুল হক, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্ল্যাটবেড ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসনে, আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা সালাহ উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ল্যাসিং–আনল্যাসিং ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং লাইটারেজ জাহাজে দৈনিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে আমদানি–রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিলম্বের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সভায় ঈদকে সামনে রেখে রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি অফডকে প্রবেশের সময় চাঁদা দাবি বন্ধ করা এবং অফডকের শ্রমিকদের বকশিস দাবি করে হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় গঠিত কো–অর্ডিনেশন সেলের মাধ্যমে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে সভায় একমত পোষণ করা হয়।












