বন্দরের অর্ধেক গেটেও নেই কন্টেনার স্ক্যানার

১২ গেটের প্রত্যেকটিতে বসানোর দাবি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৭ আগস্ট, ২০২২ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে গেট আছে ১২টি। এরমধ্যে ফিক্সড স্ক্যানার আছে ৫ গেটে। বাকি ৭টি গেটে নেই স্ক্যানার। স্ক্যানার সংকটে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ঝুঁকি বাড়েও কয়েকগুণ। অভিযোগ রয়েছে, স্ক্যানার সংকটের কারণে অনেক কন্টেনার খালাস হয় স্ক্যানিং ছাড়াই। এতে কন্টেনারে কি পণ্য ছিল, সেটি জানতে পারে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষও। অথচ বিভিন্ন সময় সভা সেমিনারে বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু এখনো অর্ধেক গেটেও বসানো হয়নি স্ক্যানার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিন দিন বন্দরে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। তাই অনেক সময় স্ক্যানারের স্বল্পতা কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে কন্টেনারের জট লেগে যায়। এতে ব্যাহত হয় পণ্য খালাস কার্যক্রম। তাই বন্দর ব্যবহারকারীরা প্রতিটি গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানোর জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবারও আহ্বান জানান বন্দর ব্যবহারকারীরা।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৫টি ফিঙড কন্টেনার এবং দুটি মোবাইল স্ক্যানারে চলছে বন্দরের কার্যক্রম। বন্দরের ৪ নম্বর গেট, ৫ নম্বর গেট, সিসিটি-২ টার্মিনাল, ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে ফিঙড কন্টেনার রয়েছে। সর্বশেষ গত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্দরের ১ নম্বর গেট এবং এনসিটি ৩ নম্বর গেটে দুটি ফিঙড স্ক্যানার স্থাপন করা হয়। এছাড়া সিসিটি ২ ও জিসিবি-২ নম্বর গেটে রয়েছে মোবাইল স্ক্যানার।
আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি পণ্য স্ক্যানিং করে খালাস করা হলে কোনো আমদানিকারক এক পণ্য এনে অন্য পণ্য ঘোষণা দিয়ে বিদেশে অর্থপাচার করতে পারবেন না। আবার বেশি দামের পণ্য এনে কম দামি পণ্য হিসেবে অথবা উচ্চ শুল্ককরের পণ্য আমদানি করে বিনা শুল্ক অথবা কম শুল্কের পণ্য হিসেবে ছাড় করাতে পারবেন না। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থপাচারও কমবে। অস্ত্র, গোলাবরুদ কিংবা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য এনে কেউ খালাস করতে পারবেন না। তাই বন্দরের প্রত্যেকটি গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানো জরুরি। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের আওতায় অঘোষিত ও বিস্ফোরকজাতীয় পণ্য আমদানির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতে ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক করা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার উপ-কমিশনার মো. সাইফুল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের স্ক্যানারের সংকট আছে এটি জানি। তবে নতুন স্ক্যানার কখন স্থাপন করা হবে, সেই বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। স্ক্যানারের বিষয়ে তিনি কাস্টমসের উপ-কমিশনার আল আমিনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে এ ব্যাপারে জানার জন্য উপ-কমিশনার আল আমিনকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহালিশহরে স্বর্ণের দোকানে চুরি
পরবর্তী নিবন্ধরাউজানে বিয়ের ছয় মাসের মাথায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা