(৩১৪৪৭)
জঙ্গলের ভেতরে এক আশ্চর্য হাতির গল্প ছড়িয়ে আছে। তাকে সবাই ডাকত বনের ডাক্তার। সে ছিল না কোনো সাধারন হাতি; ছোটবেলা থেকেই তার কৌতূহল ছিল ভেষজ গাছগাছড়ার প্রতি। অন্য হাতিরা যেখানে কচি ডালপাতা চিবুতে ব্যস্ত, সেখানে সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গন্ধ শুঁকত, গাছের বাকল কেটে দেখত ভেতরে কেমন রস।একদিন হরিণশাবক পা ভেঙে ঝোপের ভেতর কাঁদছিল। ডাক্তার হাতি চারপাশে খুঁজে পেল একধরনের পাতা যেটা সে আগে দেখেছিল নদীর ধারে। শুঁড়ে তুলে তা চিবিয়ে মেখে দিল হরিণের ক্ষতে। আশ্চর্য, কয়েকদিনের মধ্যেই হরিণশাবকের পা শুকিয়ে গেল, সে আবার দৌড়াতে পারল। সেদিন থেকেই হাতির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল।তারপর থেকে যে–ই আহত হতো, বা অসুস্থ হয়ে পড়ত, সবাই ছুটে আসত এই হাতির কাছে। বানররা এলো পেটব্যথা নিয়ে, পাখিরা এল ডানা ভাঙা অবস্থায়, এমনকি বাঘও একদিন এলো চোখে কাঁটা নিয়ে। হাতি শুঁড় দিয়ে কাঁটা বের করল, তারপর একগোছা ঘাস মেখে দিল। বাঘ তখন হেসে উঠল যতটা সম্ভব ভয়ানক দাঁত বের করেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।
বনের ডাক্তার কখনো রাগ দেখাত না, কখনো মজুরি চাইত না। তার আনন্দ ছিল এই যে, জঙ্গল আবার হাসি আর শব্দে ভরে ওঠে। তবে মানুষই শুধু এই হাতির কথা জানত না। যতদিন না এক গ্রাম্য ছেলে শিকার করতে গিয়ে বনে ঢুকে পড়ে। ছেলেটি ফাঁদে পা আটকে কাঁদতে শুরু করল। হাতি এসে তাকে ছাড়িয়ে দিল, তারপর কচি ডাল দিয়ে ক্ষত বেঁধে দিল। ছেলে বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল্তহাতি তো মানুষকেও বাঁচাতে পারে!সেই খবর গ্রামে ছড়িয়ে গেল। কেউ কেউ ভাবল্তএ হাতিকে ধরে সার্কাসে নেবে, কেউ আবার চাইল বন্দি করে ব্যবহার করবে। কিন্তু গ্রামের শিশুরা বলল, “ও আমাদের ডাক্তার, তাকে খাঁচায় বন্দি করা যাবে না।” তারা মিলে বনের কাছে প্রতিজ্ঞা করল, কেউ হাতিকে ক্ষতি করবে না।এরপর থেকে ডাক্তার হাতি শুধু জঙ্গলের প্রাণীদের নয়, গ্রামের অসহায় মানুষদেরও সাহায্য করতে শুরু করল। তবে সে সবসময় বনের ভেতরেই থাকত, যেন জঙ্গলের অরণ্যচিকিৎসক।লোকমুখে এখনো শোনা যায় যদি বনে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হও, গাছগাছড়ার ভেতর থেকে এক বিশাল ছায়া নেমে আসবে। শুঁড়ে তুলে দেবে ওষুধ, মুছে দেবে যন্ত্রণা। তখন বুঝে নেবে, তুমি বনের ডাক্তারের কাছে পৌঁছে গেছো।








