খাগড়াছড়ির গুইমারায় বন মোরগ জব্দ করে একটি দেশি মোরগ বনে অবমুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বাজার থেকে বনমোরগ কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি। পথে তাকে আটকায় বন বিভাগ। বনমোরগটি উদ্ধার করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। নিয়ম অনুযায়ী, ওই মোরগ নিকটস্থ বনে অবমুক্ত করার কথা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার। তবে উদ্ধার করা ওই বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মুচলেকা দেওয়া আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজার থেকে বন মোরগটি কিনে নিয়ে যাওয়ার পথে রেঞ্জ কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে বনমোরগ জব্দ করে। আমি মুচলেকা দিয়ে বন বিভাগের কাছে বন মোরগটি হস্তান্তর করি। পরে দেখি সেটা অবমুক্ত না করে একটি গৃহপালিত দেশি মোরগ অবমুক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করা বনমোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে দাবি করে একটি ছবি তিনি সংবাদকর্মীদের পাঠান। তবে ছবিতে তাকে একটি দেশি মোরগ অবমুক্ত করতে দেখা যায়। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, বনমোরগটি আটক করার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। নিজের মুঠোফোনে এর ছবিও তুলেছি। কিন্তু পরে যে মোরগ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে উদ্ধার করা বনমোরগটির কোনো মিল পাইনি, এটি দেশি মোরগ।
তবে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উদ্ধার হওয়া বনমোরগটি তিনি অবমুক্ত করেছেন। গুইমারা সেনা রিজিওনের পাশে সেটি অবমুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো ছবির সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বনমোরগের মিল না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই ছবিটি রাঙামাটির কুতুকছড়ির গত বছরের। আগের বছরের ছবি কেন পাঠানো হলো, তা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা গতকাল শুক্রবার রাতে এ কমিটি গঠন করেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে মাটিরাঙা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাভেদুর রহমান সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলে পানছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াস চৌধুরী ও খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস. এম. মোশারফ হোসেন। জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











