রমজানে ভিন্ন স্বাদের ইফতার খুঁজছেন নগরবাসী। সেই চাহিদা সামনে রেখে নগরীর জিইসি মোড়ের বনজৌর রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি তাদের বোট ক্লাব শাখাতেও সাজানো হয়েছে অর্ধশতাধিক পদের ব্যুফে ইফতার ও ডিনারের আয়োজন। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী ইফতার থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতীয়, চাইনিজ, থাই এমনকি নতুন যুক্ত তুর্কি খাবারসহ দুই শাখাতেই তৈরি হয়েছে রোজাদারদের জন্য বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকা।
ইফতার মানেই শরবত, ভাজাপোড়া, ফল, জিলাপি কিংবা হালিমের পরিচিত স্বাদ। তবে রমজান উপলক্ষে বনজৌর রেস্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ৫৫টিরও বেশি পদের ব্যুফে, যেখানে অভিজ্ঞ শেফদের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হচ্ছে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী আইটেমের পাশাপাশি সৌদি, ভারতীয়, থাই, চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল নানা খাবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের তৃতীয় তলায় মূল রেস্টুরেন্ট এবং চতুর্থ তলায় ব্যাঙ্কুইট হল। প্রবেশের পর বাম পাশে সাধারণ ডাইনিং অংশে ৬০টিরও বেশি দেশি–বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা, আর ডান পাশে ইফতার ও ব্যুফের আলাদা সেকশন সাজানো হয়েছে। ব্যুফে তালিকায় রয়েছে আস্ত কোরাল মাছ, খাসির পায়া, গরুর বট, বিভিন্ন ধরনের বিরিয়ানি, বিশেষ হালিমসহ নানা পদ।
ডেজার্ট সেকশনও সমৃদ্ধ। ১৫টির বেশি মিষ্টান্নের মধ্যে রয়েছে পুডিং, পেস্ট্রি, ফলের সালাদসহ নানা আইটেম। পারিবারিক বা কর্পোরেট আয়োজনের জন্য আলাদা প্যাকেজ রাখা হয়েছে, যার মূল্য শুরু ৮৫০ টাকা থেকে।
বনজৌরের বোট ক্লাব শাখাতেও একই ধরনের ব্যুফে ও ইফতার আয়োজন চালু রয়েছে। সেখানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তুর্কি খাবারের বিশেষ মেন্যু। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে প্লেটার মূল্য শুরু প্রায় তিন হাজার টাকা থেকে, আর পার্টি প্যাকেজ পাওয়া যাচ্ছে ৫৯০ টাকা থেকে। খোলা পরিবেশে পরিবার বা গ্রুপ নিয়ে ইফতার করার জন্য এই শাখাটি ইতোমধ্যে অনেকের আগ্রহ কাড়ছে।
রেস্টুরেন্ট সূত্রে জানা গেছে, জিইসি শাখায় ব্যুফে ইফতারের মূল্য রাখা হয়েছে ১৩৫০ টাকা। যারা বাসায় নিয়ে যেতে চান তাদের জন্য তিন ধরনের টেকঅ্যাওয়ে বক্স রয়েছে, যার দাম ৪০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। এসব বক্সে আরবিয়ান, ভারতীয়, চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল ও দেশীয় খাবারের সমন্বয় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাঙ্কুইট হলে ৫০ থেকে ৪০০ জনের গেট–টুগেদার বা সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।
ইফতার করতে আসা ক্রেতা সোহেল ইসলাম বলেন, এখানের আইটেমগুলো বেশ বৈচিত্র্যময়। ব্যুফেতে অনেক নতুন আইটেম ও ডেজার্ট রাখা হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভিন্ন স্বাদের ইফতার করার জন্য জায়গাটি ভালো লেগেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে প্রায় ১৫ জন শেফ বিভিন্ন আইটেম প্রস্তুত করেন। তারা হালাল ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন নতুন মেন্যু সংযোজনের কাজ করছেন।
রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলাশ কান্তি দে বলেন, রমজান উপলক্ষে আমরা বিশেষভাবে ব্যুফে ইফতারের দিকে গুরুত্ব দিয়েছি। ক্রেতাদের পছন্দের কথা ভেবে ৫৫টির বেশি আইটেম রাখা হয়েছে। মান বজায় রেখে সহনীয় দামে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরিবার, বন্ধু বা কর্পোরেট আয়োজন –সব ধরনের ইফতার ও ডিনারের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।









