বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ‘কেরালা’র নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের যে নাম ব্যবহার করা হয়, সেটিকে দাপ্তরিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’–তে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ভারতের কেরালা (নাম পরিবর্তন) বিল, ২০২৬ এখন সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেরালা বিধানসভায় পাঠাবেন রাষ্ট্রপতি। যাতে রাজ্য আইনসভা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। বিধানসভার মতামত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত এই বিল পেশ করার জন্য রাষ্ট্রপতির সুপারিশ গ্রহণ করবে।
সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পার্লামেন্ট আইনের মাধ্যমে যেকোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইনসভার মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেরালার নামবদলের জন্য দুইবার (২০২৩ ও ২০২৪ সালে) প্রস্তাব পাশ করা হয়েছিল রাজ্য বিধানসভায়। সেই প্রস্তাবে কেরালার বাম সরকার কেন্দ্রকে রাজ্যের নতুন নাম কেরালাম করার প্রস্তাব দেয়। কেরালার পিনারাই বিজয়ন সরকারের আর্জি ছিল, সব ভাষায়, এমনকি সংবিধানের অষ্টম তফসিলেও কেরালার নাম কেরালাম করা হোক।
কেরালা সরকারের প্রস্তাবে নামবদলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম কেরালাম–ই। ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগঠন হলেও সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম কেরালা রাখা হয় বলে ওই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। এর আগে কেরালা সরকারের প্রথম প্রস্তাবটি ‘পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি’ থাকায় ফেরত পাঠিয়েছিল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারপর আবার প্রস্তাব যায় কেন্দ্র সরকারের কাছে।
এবার সেই প্রস্তাবেই অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কেরালায় বিধানসভা ভোটের আগে নামবদলের প্রস্তাবে মোদী সরকারের এই সিলমোহর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।












