সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রাম নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পেয়ে খুশিতে মেতেছে শিক্ষার্থীরা। বই দেয়াকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীদের সাথে আসেন তাদের অভিভাবকেরাও। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলা তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বই উৎসবের কর্মসূচি স্থগিত করে সরকার। ফলে গতকাল নগরীর বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাড়ম্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বই বিতরণ কার্যক্রম চলে দিনভর। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব বই পেলেও মাধ্যমিকে কোনো কোনো শ্রেণীর বই এখনো আসেনি। গতকাল সরেজমিনে নগরীর ষোলশহর আবদুল জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে বই নিতে অপেক্ষা করছে। নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখেও ছিল হাসি। এই সময় তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। বই হাতে পেয়ে আবার অনেককে গন্ধ শুঁকতে দেখা যায়।
আমেনা বেগম নামের একজন অভিভাবক বলেন, বছরের প্রথম দিন বই পাওয়ার জন্য শিশুরা দুই একদিন থেকেই অপেক্ষা করতে থাকে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বই পেয়ে তারা অনেক বেশি আনন্দিত।
আতাউর রহমান নামের অপর এক অভিভাবক বলেন, বছরের প্রথম দিন বই পাওয়ার কারণে ছেলে মেয়েদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহটা তৈরি হয়। ছেলে মেয়েদের পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখলে অভিভাবকদেরও ভালো লাগে।
আব্দুল জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলী বড়ুয়া বলেন, আমাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই এসেছে। প্রথমে আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দিয়েছি। পরে তৃতীয় থেকে পঞ্চমের বই দেওয়া হয়েছে। বই বিতরণে এবার কোনো উৎসব করা হচ্ছে না। এজন্য আমরা শিক্ষার্থীদের রোল ধরে ডেকে ডেকে তাদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি। পাশাপাশি বই দেওয়ার পর তাতে কাঁটা–ছেড়া বা কোনো সমস্যা আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাচাই করে নিতে বলছি। এজন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত না থাকায় তাদের বই দিতে পারিনি। তবে যেদিন উপস্থিত হবে সেদিন বই পাবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুর রহমান বলেন, সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চার হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে তারা সবাই বই পেয়েছে। যারা অনুপস্থিত ছিল তাদের উপস্থিতির দিন বই বিতরণ করা হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শ্রেণীর সব বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো পৌঁছায়নি।
এদিকে নগরীর সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণীর বই বিতরণ করা হয়েছে। বলুয়ারদীঘি সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর কয়েকটি বিষয়ের বই বিতরণ করা হয়েছে।
সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোরশেদুজ জামান বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে বই নিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র সপ্তম শ্রেণির বই কম এসেছে। অন্যান্য শ্রেণির বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন, কম–বেশি সব শ্রেণীর পাঠ্যবই এসেছে। প্রথমদিন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে বলে আশা করছি।












