ফ্যাসিবাদীরা বিদায় নিয়েছে, ফ্যাসিবাদ এখনো বিদায় নেয়নি

চট্টগ্রামে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াত আমির

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

কোরআনি আইনের মাধ্যমে দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা কোনো বিশেষ দলের বিজয় চাচ্ছি না। আট দলেরও বিজয় চাচ্ছি না। আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্খার বিজয় চাই। আর সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে, কোরআনি আইনের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, এর বাইরে গিয়ে, কোনো কিছু দিয়ে বাংলাদেশকে আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি গতকাল বিকেলে নগরের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ) ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা’সহ পাঁচ দফা দাবিতে ৮ দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চট্টগ্রামবাসীকে ‘বিজয়ের হুইসেল’ বাজানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিজয়ের এই হুইসেলটা, বিজয়ের এই বাঁশিটা, ইসলামের প্রবেশদ্বার, ইসলামাবাদখ্যাত এই চট্টগ্রাম থেকে আপনারা বাজাবেন ইনশাআল্লাহ। এই বিজয়ের বাঁশি এখান থেকে শুরু হবে আর চেরাপুঞ্জির পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা লাগবে ইনশাআল্লাহ। সারা বাংলাদেশ, ইনশাল্লাহ কোরআনের আলোকে আবাদ হবে। আগামীর বাংলাদেশ কোরআনের বাংলাদেশ। কোরআনকে বুকে নিয়ে, রাসুলের সুন্নাহকে বুকে নিয়ে আমরা বাঁচতে চাই, মরতে চাই। আমরা কোনো লাল চক্ষুকে পরোয়া করব না। কোনো দাদাবাবু মানি না, কোনো বড়ভাই মানি না। সকলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক। সমাবেশে ৮ দলের প্রধানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদিরা বিদায় নিয়েছে, ফ্যাসিবাদ এখনো বিদায় নেয়নি। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, ফ্যাসিবাদ কালো না লাল, কোনো ফ্যাসিবাদকে আর বাংলার জমিনে বরদাশত করা হবে না ইনশাআল্লাহ। কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলেন, কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদিদের মতো আচরণ করেন, তারা কোন পথ খুঁজে নেবেন আমরা জানি না। কিন্তু আমরা তাদের পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, বাংলার জমিনে এই দেশের আপামর ছাত্র, তরুণ, মেহনতি জনতা ফ্যাসিবাদকে আর বরদাশত করবে না। আমরা অতীতেও রুখে দিয়েছিলাম আল্লাহর ওপর ভরসা করে, ভবিষ্যতেও কেউ মাথা তুললে রুখে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে কথা বলতে পারেনি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ অবিচার, নির্যাতনের শিকার হয়ে কোথাও সামান্য বিচার পায়নি। বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ভেসে গিয়েছিল। দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এক নয়, দুই নয়, আটাইশ লক্ষ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে

উন্নয়নের কথা বলত। তারা উন্নয়ন করেছিল নিজেদের। রাস্তাঘাট আর দালান নির্মাণ করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একবার একটা মেয়েকে একটা ডিবেটে বলতে শুনলাম, আজ যদি কবি বেঁচে থাকতেন তিনি বলতেন-‘বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, চাঁদের জায়গায় চাঁদ তো আছে বাঁশগুলা সব কই?’ সব বাঁশ উধাও হয়ে গিয়েছিল।

পতিত আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা রক্ত হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা ক্ষমতায় এসেছিল ২০০৯ সালে। ফেব্রুয়ারির ২৫ এবং ২৬ তারিখ দুইদিনে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর হেডকোয়ার্টারে ৫৭ জন প্রতিশ্রুতিশীল, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অফিসারকে হত্যা করেছিল। আর চব্বিশের গণবিপ্লবে ছাত্র, তরুণ, সন্তানদের বুকে গুলি চালিয়ে কাড়ি কাড়ি লাশ ফেলে যখন সামাল দিতে পারেনি, তখন বাংলার জমিনে গাড়ি চালিয়ে যাবার তাদের সাহস হয়নি। অথচ বলেছিল, অমুকের কন্যা পালায় না। আমাদের দুঃখ লাগে, আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীকেও তারা এই খুনের কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের একটা প্রতিষ্ঠানকেও তারা স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে দেয়নি। বিচার বিভাগ ধ্বংস করেছে। নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে বগলের নিচে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে ধ্বংস করেছিল।

জামায়াতের আমীর বলেন, ফ্যাসিবাদীরা আমাদেরকে উন্নয়নের গল্প শোনাত। বলত, বাংলাদেশ এখন সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ এখন কানাডা। হ্যাঁ, বাংলাদেশ কানাডা হয়েছে তাদের জন্য, কারণ তারা কানাডায় পালিয়ে গিয়ে বেগম পাড়া তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো লুট করে, ডাকাতি করে, সিঙ্গাপুরে নিয়ে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে এতগুলো আলেম ওলামাকে হত্যা করার পর কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কেউ মারা যায়নি। ওখানে লাল রঙের যে তরল পদার্থ দেখেছেন এটা মোল্লা মৌলভীরা কিছু রং ছিটিয়ে রেখেছিল। মানুষ খুন করার পরে আবার মানুষের রক্ত নিয়ে উপহাস। এটিই ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, লন্ডন যেতে পারেন কাল
পরবর্তী নিবন্ধদুই পাহাড়ি জেলার সংযোগ মাত্র ১২ ফুট প্রস্থ সড়কে