ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা হালনাগাদ প্রতি ৪ বছরে

| মঙ্গলবার , ১৬ জুন, ২০২৬ at ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। আর তালিকা হালনাগাদ করা হবে প্রতি চার বছর পর। গতকাল সোমবার ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচির কে কোথায় কীভাবে টাকা খরচ করছে, তা ছয় মাস পর পর্যালোচনা করা হবে। আর প্রতি চার বছর পর পর তালিকা হালনাগাদ করা হবে, যেখানে সচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে। খবর বিডিনিউজের। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনার পাশাপাশি তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) গাইডলাইন ২০২৬ চূড়ান্তকরণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠন করার পরপর গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কাদের জন্য কী অ্যালোকেশন, কাদের জীবনের পরিবর্তন করার জন্য কী আমাদের উদ্যোগ, পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। সমাজের, দেশের কোনো একজন নাগরিককে বাদ রেখে এই বাজেট হয় নাই। প্রত্যেককে মাথায় রেখে বাজেট হয়েছে। এইজন্য পুরো বিষয়টাকে আমরা বলছি ডেমোক্রেটাইজেশন অব দি ইকোনমি, অর্থাৎ অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা গ্রুপ বেনিফিট পাবে, এখানে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি হবে, আর দেশের বাকি লোক অর্থনীতির কোনো সুযোগ পাবে না, তাদের কাছে অর্থনীতির সুফল যাবে না, সে অংশগ্রহণ করতে পারবে নাএটা তো একটা গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনীতির জন্য কাম্য না। এজন্য আমরা এর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। এক সাংবাদিক জানতে চান, দরিদ্র কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে সেক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ডের কী হবে? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সে কৃষক কার্ড পাবে। ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের সুযোগ পাবে। বয়ষ্ক ভাতার সুযোগ পাবে। অনেকগুলো আছে। তবে কেবল এ ধরনের কার্ড নির্ভরতা নয়, বরং কর্মক্ষম দেশ গড়ায় সবার চেষ্টা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। আমরা এই দেশটাকে কর্মক্ষম, দক্ষ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। ‘সরকার দেবে, আমি বসে বসে খাব…’ দিতে হবেযেখানে প্রয়োজন; দিচ্ছিও আমরা। ফ্যামিলি কার্ডসহ সব দিচ্ছি। কিন্তু সবাইকে দক্ষতা অর্জন করতে হবেবলছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউনি ভীষণ জটিল মানুষ : বন্ধু নেতানিয়াহুর উপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
পরবর্তী নিবন্ধমানিকছড়িতে ট্রাক-ব্যাটারি রিকশার সংঘর্ষে নিহত ১