জাল–জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ফোর এইচ গ্রুপের হিসাব থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংকের সিনিয়র এক কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। তারা হলেন ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখার সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ব্যাংকটির কর্মচারী তাহমিনা আফরোজ, শালা বিন সোহেল ও মো. মোশারফ মিয়া নামের অপর একজন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজা নিজ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ আজাদীকে মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট গ্রাহক ফোর এইচ গ্রুপের সিএফও শাহাদাত উদ্দিন মো. সাদাত ব্যাংকটির হোলসেল ব্যাংকিং ডিভিশন চট্টগ্রামের ক্লাস্টার হেড সুবীর দাস গুপ্তকে ফোন করে জরুরি সাক্ষাতের অনুরোধ করেন। পরে গত ২৯ জানুয়ারি ফের একই ধরনের অনুরোধ করা হলে সুবীর দাস গুপ্ত ফোর এইচ গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে গেলে তাকে জানানো হয়, ডেপুটি কমিশনার (কর) ঢাকা কর্তৃক ফোর এইচ গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের বিগত ৬ ছয় বছরের দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে কর নিরূপণের লক্ষ্যে অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে অনুযায়ী অডিট কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম কর্তৃক প্রদানকৃত এফডিআরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আয়কর অফিসে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত এফডিআরের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব যাচাই করতে গিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।
দুদক জানায়, ফোর এইচ গ্রুপের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ উক্ত বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, সাইফুল ইসলাম নগরীর আগ্রাবাদে থাকা সিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ কর্পোরেট এবং ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং ডিভিশনের সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার উপর অর্পিত ব্যাংকিং দায়িত্ব ও আস্থার অপব্যবহার করে ফোর এইচ গ্রুপের হিসাব থেকে বিনা সম্মতিতে অপর আসামিদের সহায়তায় জাল–জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আরটিজিএস কিংবা ট্রান্সফারের মাধ্যমে আনুমানিক ১১ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরো তথ্য উঠে আসার কথা উল্লেখ করে দুদক থেকে জানানো হয়, ফোর এইচ গ্রুপের মালিকানাধীন ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট এবং চার্ম ফ্যাশনের অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকের কোনো প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই আসামি মো. মোশারফ মিয়ার নিজ নামীয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে ও সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আসামি তাহমিনা আফরোজের সিটি ব্যাংকে রক্ষিত নিজ নামীয় হিসাবে এবং সাইফুল ইসলামের শালা আসামি শিহাব বিন সোহেলের মালিকানাধীন এসবিএস এন্টারপ্রাইজের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রান্সফার করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দুদক জানায়, উক্ত ঘটনার বিষয়ে সিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত উদঘাটিত হয়েছে, তা চূড়ান্ত নয়। চলমান তদন্তে আরো অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ, নতুন লেনদেন, সংশ্লিষ্ট হিসাব এবং অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা উদঘাটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আত্মসাৎকৃত মোট অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সংখ্যাও পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেতে পারে।












