ফুটসালের শিরোপা জিতে সাবিনা লিখলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

স্পোর্টস ডেস্ক | সোমবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে রোববার রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে সাবিনা খাতুন ও লিপি আক্তারের হ্যাটট্রিকে মালদ্বীপকে ১৪২ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আসর শেষ করে তারা। এদিন খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই সাবিনা, মাতসুশিমা সুমাইয়া, মাসুরা, নিলুফারা পরস্পরকে আলিঙ্গণে বাঁধেন। লালসবুজের পতাকা উড়িয়ে ননথাবুরি হলে দিলেন চক্কর। গ্যালারিতে আসা সমর্থকদের অভিনন্দনে সাড়া দিলেন। ফটোসেশনে উল্লাসে ফেটে পড়লেন তারা এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসরের শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে বসার তৃপ্তি নিয়ে। পরে অনির্বচনীয় আনন্দের অনুভূতিও সাবিনামাতসুশিমারা ভাগাভাগি করে নিলেন সবার সাথে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও এত বড় স্বপ্ন ছিল না সাবিনামাসুরাদের চোখে। থাইল্যান্ডে রওনা দেওয়ার আগে ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাবিনা, ইরানী কোচ সাঈদ খোদারাহমির কণ্ঠে ছিল না শিরোপা জয়ের জোরাল আশা। ‘ভালো কিছু’ পাওয়ার আশাতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কথা। ওই সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার শুরু ভারতের বিপক্ষে ৩১ গোলের জয়ের পর থেকে। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ভুটানের বিপক্ষে ৩৩ ড্রয়ে আত্মবিশ্বাসে চোট লাগে কিছুটা, কিন্তু এরপর সাবিনারা হয়ে উঠে অদম্য এবং দুর্বার। নেপালকে ৩০ গোলে হারিয়ে, শ্রীলঙ্কাকে ৬২ ব্যবধান উড়িয়ে এবং পাকিস্তানকে ৯১ গোলে গুঁড়িয়ে শিরোপার ঘ্রাণ পেতে থাকে মেয়েরা। সবার শেষে মালদ্বীপকে উড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেওয়া ছোট ছোট একাধিক পোস্টে সাবিনা তুলে ধরলেন অনুভূতি। মালদ্বীপ ম্যাচ শুরুর আগে সাবিনা পোস্ট করেছিলেন, ‘একটা লড়াই বাকি। সব হৃদয় একসাথে, কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ। বাংলাদেশ সময় ১০টায় খেলা। আমাদেরকে প্রার্থনায় রাখবেন।’ মালদ্বীপকে উড়িয়ে দেওয়ার পর তিনটি পোস্টের একটিতে তিনি লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’, অন্যটিতে ‘আল্লাহ মহান’, আরেকটিতে পোস্ট করেছেন টিম বাসে করে হোটেলে ফেরার মুহূর্ত। সেখানে ‘চ্যাম্পিয়নচ্যাম্পিয়ন: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন’ স্লোগানের নহর বইছে। ইতিহাস গড়া এই সাফল্যের পর সাফের পোস্ট করা ভিডিওতে পাশে থাকা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি মাতসুশিমা সুমাইয়া। ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে আজ আমাদের শেষ ম্যাচ ছিল।

এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য সাফকে ধন্যবাদ। সব মিলিয়ে আমার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। এখানে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছি, যাদের বিপক্ষে খেলতে পেরে আনন্দিত। আলহামদুলিল্লাহ আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ফিজিও এবং সমর্থক, যারা আমাদের সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে বালক-বালিকাদের এ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ শুরু
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপের কথা ভাবতে পারছে না ডব্লিউসিএ