ফুটপাতেও রমরমা ঈদবাজার

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২০ এপ্রিল, ২০২২ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

অভিজাত বিপণী থেকে রাস্তার ফুটপাত সর্বত্র জমজমাট ঈদবাজার। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল বলা যায় এই ফুটপাত। নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ত মোড়ের ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে টেবিল বসিয়ে পণ্যের পসরা নিয়ে বসা এই শহরের পুরনো চিত্র। এর সাথে যোগ হয়েছে ভ্যানগাড়ি। এখন ফুটপাতের পাশে ভ্যানেও ঈদের বাজারের কেনাকাটা চলছে। নির্মাণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা চালক ও খেটে খাওয়া মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন ফুটপাতের ঈদবাজারে।

গতকাল সরেজমিনে নগরীর আগ্রাবাদ, নিউ মার্কেট, লালদীঘির পাড়, আন্দরকিল্লা মোড় ও জিইসি মোড়ের ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করছেন। কেবল নিম্নবিত্ত মানুষ নয়, মধ্যবিত্তের অনেকেও ফুটপাতের বিভিন্ন পণ্য খুটিয়ে দেখছেন।

আগ্রাবাদ মোড়ের বিক্রেতা আসাদ উদ্দিন বলেন, এ বছর অনেক আশা ভরসা নিয়ে ব্যবসায় নেমেছি। দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। গত দুই বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে ব্যবসা করতে পারিনি। ঈদ উপলক্ষে অনেক ভালো পণ্য এনেছি। আমাদের বেশিরভাগ পোশাক গার্মেন্টসের। তিনি জানান, সব শ্রেণীর ক্রেতারা আমাদের দোকানে আসেন। ঈদ উপলক্ষে গত দুদিন ধরে বেচাবিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। আগ্রাবাদ মোড়ের ফুটপাতে কথা হয় দিনমজুর হোসেন আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বউ-বাচ্চার জন্য কিছু পোশাক কিনতে এসেছি। গত দুই বছর আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল, তাই পোশাক কিনতে পারিনি।

নগরীর লালদীঘি মাঠের ফুটপাতে তিন চাকার ভ্যান গাড়িতে শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি ও শিশুদের ফ্রক বিক্রি করছেন আবুল হাশেম। বেচাবিক্রির অবস্থা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরের পর থেকে মূলত বেচাবিক্রি শুরু হয়। সন্ধ্যার পর বিক্রির পরিমাণ বাড়ে। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। জহুর হকার্স মার্কেট এলাকায় কথা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আয়া আয়েশা আকতারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। চাইলে তো মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারি না। ফুটপাতের দোকানে কম দামে সুন্দর সুন্দর পণ্য পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছর ঈদের আগে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে ফুটপাতে আসি।

তবে বহদ্দারহাট মোড়ে কয়েকজন বিক্রেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, ফুটপাতে পোশাক বিক্রি আগের চেয়ে কমে গেছে। এখন প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। খরচের সাথে আয়ের তেমন সামঞ্জস্য নেই। দোকান ভাড়া কাদের দিতে হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, ভাড়া অবশ্য নির্দিষ্ট না। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ভাড়ার টাকা নিয়ে থাকেন। এখন যেহেতু ঈদের মৌসুম তাই ভাড়াও বেশি গুনতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রদীপ-চুমকির বিরুদ্ধে আরও ৫ জনের সাক্ষ্য
পরবর্তী নিবন্ধমাটিরাঙায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত