ফিরে দেখা ১৫ আগস্ট ও স্ববিরোধিতার স্বরূপ

কানাই দাশ | সোমবার , ২৯ আগস্ট, ২০২২ at ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমি ছিলাম পশ্চিম বঙ্গের বারাসতে। সেদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছুটি ছিল সারা ভারতে। সকালে আমার কাকার সাথে গল্প করছিলাম- বলছিলাম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বাকশাল কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু তাঁকে আমার ভীষণ হতাশাবাদী মনে হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহুর্তে সকাল ১০ টা কি ১১ টা বাজে বাইরের জানালা দিয়ে কে একজন ডেকে বলল ‘শেখ মুজিব’ কে মেরে ফেলেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। তখন ছিল না ইন্টারনেট, ছিল না মোবাইল, শুধু ছিল রেডিও। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দুপুর দেড়টায় আকাশ বাণীর বাংলা খবর শুনতে গেলাম। আকাশবাণীর প্রখ্যাত সংবাদ পাঠিকা নীলিমা সেনের কণ্ঠে শুনলাম ‘বাংলাদেশে শেখ মুজিবকে গদিচ্যুত করা হয়েছে’। মৃত্যু খবর চেপে যাওয়া হল। বিকেলে লোকমুখে চাউর হতে শুরু করল বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা ও মোশতাকের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর। মোশতাক সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকাতে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু সে যে বেইমানি করেছে তা স্পষ্ট হয়ে গেল। সন্ধ্যার দিকে বিভ্রান্তি বাড়ল যখন দেখলাম বঙ্গবন্ধুর প্রায় পুরো মন্ত্রিসভা মোশতাকের অধীনে শপথ গ্রহণ করছে। সে সময় সেখানে সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে বিমর্ষভাব লক্ষ্য করি।
তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে আসার মত পরিস্থিতিও ছিল না। ভীষণ মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটছিল। এটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের নির্মম চক্রান্তের শিকার হয়েছিল সেদিন বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ। দেশের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অনির্বচনীয় ভাবাবেগ ও মনোবেদনার তীব্র যাতনায় কাটছিল ’৭৫ এ ঐ সময় আমার দিনগুলো কলকাতা শহর ও শহরতলীতে আত্মীয়স্বজনের বাসায় বাসায়। মাত্র আড়াই মাস পর ঠাণ্ডা মাথায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা জেল খানায় মোশতাকের মূল শত্রু তাজউদ্দিনসহ মুক্তিযুদ্ধের চার মূল নেতাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করার জন্য মোশতাকের ঘোষিত ইনডেমনিটি আদেশ ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদের মধ্যে আইনে পরিণত করলেন এবং নারী ও শিশু হত্যাসহ এই দুই হত্যাকাণ্ডের আত্মস্বীকৃত খুনিদের সরকারি চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করার অমার্জনীয় অপরাধ করলেন। রক্তে লেখা সংবিধানে সাম্প্রদায়িক সংশোধনী নিয়ে আসলেন। এই দুই ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথে বিএনপির মৌলিক সমঝোতার পথ চিরদিনের জন্য রুদ্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় স্থায়ী রাজনৈতিক সংকট। ১৯৭৬ এর ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে দেখি জিয়ার কঠোর সামরিক শাসন আর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ।
অকপট আন্তরিকতা, দেশ ও মানুষের প্রতি অপরিসীম দরদ, সততা, অসম সাহস, আপসহীন প্রতিবাদী, উদারতা, এসব একান্ত ব্যক্তিগত গুণাবলী একজন মানুষকে রাজনীতিতে ক্রমাগত যে কতটুকু উচ্চতায় নিয়ে যায়, তা বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। মাত্র ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে চিন্তা ও কাজের প্রগতিমুখী ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় অনতিক্রম্য বাধা পেরিয়ে তিনি একটি রাষ্ট্র ও জাতির কর্ণধারে পরিণত হলেন। এটা আমাদের সময়ের রাজনীতির অত্যাশ্চর্য এক ঘটনা। ১৯৭২ সালেই শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র। ১৯৭৩ সালেই প্রতিক্রিয়ার শক্তি ও ষড়যন্ত্র আঁচ করে ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলনে এসে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘আলেন্দের মত অবস্থা হলেও আমি মাথা নত করব না’। এটা যে কী গভীরভাবে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ১৫ আগস্ট তার প্রমাণ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ’৭১ এর শত্রুরা তাঁকে যে কোনো সময় আঘাত করতে পারে। কিন্তু মানুষের মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতাকে মানুষের কাছে অর্থবহ করার জন্য সবাইকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর সমঝোতা ও ভারসাম্য বজায় রেখে সমঝে চলতে চেয়েছিলেন, নীতির প্রশ্নে অটল থেকে। উদার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দলের মধ্যে মোশতাক চক্র এবং বাইরে উগ্র ডান বাম সবার সাথে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখে সততার সাথে এগুতে চেয়েছেন আপন চিন্তায়, গতিতে ও হিসাবে। দেশ-বিদেশে তাঁর শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও রাষ্ট্রনেতারা তাঁকে বার বার সাবধান করেছেন। বলেছেন, আদর্শিক শত্রু কোনো দিন পোষ মানে না। কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, উদারতা, শত্রু মিত্র চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ পরিজনদের দ্বারা সৃষ্ট বিভ্রান্তি বিশেষ করে অকৃত্রিম সুহৃদ তাজউদ্দিনের সাথে বিচ্ছিন্নতা জনিত রাজনৈতিক একাকীত্ব তাঁকে চরম পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। শত্রুপক্ষ তাঁকে ঠিকই চিনত এবং চিনত বলেই তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে কেন না মানবতার শত্রুরা উদারতার বদলে হিংস্রতা, সততার বদলে কপটতাকে বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধুও এটা জানতেন বলে ১৯৭৫ সালে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন ‘vice and virtue can not mix together’। তিনি নিজের জীবনে কর্মে ও প্রতিজ্ঞায় প্রমাণ করেছিলেন অসৎ পথে কোনো দিন মহৎ কাজ করা যায় না। গোপন বা কৌশলের রাজনীতি তিনি করতে পারতেন না। তিনি অতুলনীয় সাহসী ছিলেন, কিন্তু কৌশলী ছিলেন না। অথচ হিংস্র শত্রুর মোকাবেলায় ক্যাস্ট্রোর মতো কৌশলী হওয়া ছাড়া উপায় নেই। বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবাসতেন, আপনজনদের বেশি বিশ্বাস করতেন। তা করতে গিয়ে নয় মাসের ঝড়ো সময়ের দিকে তিনি ফিরে তাকিয়েছিলেন বলে মনে হয়নি। অথচ ’৭১ এর নয় মাসে প্রত্যেকের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছিল। ’৭১ এ কে কী ভূমিকা পালন করেছে তা পর্যালোচনা জরুরি ছিল সামনে এগুবার জন্য, কিন্তু স্বাধীন দেশে তা নিয়ে তিনি খুব বেশি মাথা ঘামিয়ে চলতে গিয়ে বিপত্তি ও বিভক্তি সৃষ্টি করতে চাননি। ফলে মোশতাক ও অন্যরা সুযোগ পেয়ে যায়। তিনি চিনতেন মোশতাককে, জানতেন তার ভণ্ডামির কথা। মোশতাকও তাঁকে কোনো দিন মেনে নেননি। তবুও পাক মার্কিন এজেন্ট মোশতাককে এভাবে তাঁর পাশে দেখে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে মোশতাকের প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেয় প্রাজ্ঞ তাজউদ্দিন। ’৭১ এর মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর একান্ত নির্ভরযোগ্য উপদেষ্টা তাজউদ্দিন উপেক্ষিত হয়ে, বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অভিমানাহত হয়ে তাঁর শ্রদ্ধার, তাঁর প্রিয়তম নেতার পাশ থেকে দূরে থাকতে শুরু করলেন। সেই সুযোগে মিথ্যা অভিনয়ে পারদর্শী মোশতাক ও তার অনুগামীরা তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করতে পারল।
বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর দু’পক্ষ মিলে পূর্বের মতো তাজউদ্দিনের মূল্যবান পরামর্শ ও উপদেশ নেয়া থেকে বঞ্চিত করে কার্যত বঙ্গবন্ধুকে একা করে ফেলে। কেননা আদর্শের প্রতি দৃঢ় থেকে জটিল পরিস্থিতি উত্তরণে দক্ষ তাজউদ্দিনের সমকক্ষ কেউ সমসাময়িক রাজনীতিতে ছিলেন না। ফলে একা বঙ্গবন্ধু পাক-মার্কিন বিরোধীতার মুখে, দলীয় নেতাকর্মীদের উশৃঙ্খল ও ক্রমে ভোগবাদী হয়ে উঠার অপ্রতিহত প্রবণতার মুখে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ’৭৪ এর অক্টোবরে তাজউদ্দিনকে সরকার থেকে বের করে দেবার পরে মোশতাকের প্রাথমিক বিজয় হয়। এর পরে তাকে আর বেশি চিন্তা করতে হয়নি ষড়যন্ত্র এগিয়ে নিতে। নির্লজ্জ তোষামোদিতে তার জুড়ি ছিল না। তাজউদ্দিন বুঝে শুনে নিশ্চুপ দূরত্ব বজায় রাখেন। এদিকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। এসব দেখে লাঞ্ছিত, উপেক্ষিত তাজউদ্দিন আসন্ন ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা বুঝে ১৫ আগস্টের মাসখানেক পূর্বে অপমানের ঝুঁকি নিয়ে মাঝরাতে একবার শেষবারের মত ৩২ নম্বরে গিয়ে ‘মুজিব ভাইকে’ সাবধান করে দিয়ে মনে হয় নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৫ আগস্ট তাঁর আশঙ্কা নির্মম সত্যে পরিণত হয়। অবশেষে ৩ নভেম্বর নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করলেন অপমানিত, নিগৃহীত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন ‘মুজিব ভাইয়ের’ চির বিশ্বস্ত।
বঙ্গবন্ধুর এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও কারণ নিস্পৃহ ভাবে বের করতে না পারলে, সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা বিবেচনায় না নিয়ে, চক্রান্ত সফল করতে পারার প্রধান কারণ বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির জন্য সচেতন বা অবচেতনভাবে দায়ী সব পক্ষকে চিহ্নিত না করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড কিছু খুনে সামরিক অফিসারের দ্বারা সংঘটিত বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটা আদর্শিক লড়াইয়ের ব্যাপার। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে পরাজিত করার ব্যাপার। এদেশের মানুষ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা এ দেশের কর্তৃত্ব অর্পণ করেছিল বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগকে। সেদিন কেন ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারলো না এর জবাব ও ব্যর্থতার দায় আওয়ামী লীগ এখনো নির্মোহভাবে স্বীকার করেনি, শিক্ষা নেয়া দূরে থাক।
মোশতাক ও ’৭৫ পরবর্তী শাসক গোষ্ঠী তো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও ’৭২ এর সংবিধান বিরোধী শক্তি। তারা ১৬ ডিসেম্বরের পরাজয়ে প্রতিশোধ নেবার জন্যই ক্ষমতা দখল করেছে এবং ২১ বছরে অত্যন্ত সফলভাবে তারা ভাবাদর্শগত দিক থেকে দেশকে কার্যত পাকিস্তান বানিয়েছে। সমাজকে সাম্প্রদায়িক ধর্ম পরিচয়ে বিভক্ত করে ফেলেছে, লুটেরা অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে? মোশতাক, জিয়া, এরশাদ তাদের নিজস্ব ’৭১ এর উল্টোপথে চলবে এটাইতো স্বাভাবিক। সারাক্ষণ ওদের বিরুদ্ধে বলে, বঙ্গবন্ধুর কথা বলে, ওদের অর্থনৈতিক, সাম্প্রদায়িক, পশ্চাদপদ শিক্ষানীতি অনুসরণ করে, নিজেদের প্রকৃত পথে চলার বদলে ওদের পথে চলে নিজেদের স্বরূপ আড়াল করা ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এই দুঃসহ স্ববিরোধিতার অবসান চায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।
আজ ’৭৫ এর সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে কেমনতর অবিবেচনায় ইনু-তাহের মিলে জিয়ার ক্ষমতা দখলের পথ করে দেয়। কেমন সুবিধাবাদিতায় আওয়ামী লীগের কর্মীবাহিনির এক বিরাট অংশ সেদিন নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। খুনিদের বিচারের দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত ৪ নভেম্বর’৭৫ এ ছাত্র জনতার বঙ্গন্ধুর বাসভবন অভিমুখী ঢাকার রাজপথে প্রথম শোক ও প্রতিবাদী মিছিল সংঘটিত করার কাজে ও মিছিলে নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন ডাকসু সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন, ছাত্র ইউনিয়ন ও সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আমার যদি ভুল না হয় প্রথম নেতা যিনি সেনাবাহিনীর গান পয়েন্টের মধ্যে সেদিন ৩২ নম্বরে প্রথম পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এখন এটি বিস্মৃত ইতিহাস। আজ শাসকদলে জাতীয় শোক দিবস পালনের লোকের অভাব নেই। বঙ্গবন্ধুর ছবির নীচে অসৌজন্যভাবে নিজেদের ছবি দিয়ে সারাদেশ ব্যানারে ব্যানারে ঢেকে এমপি, নেতা ও কর্মীদের শোক প্রকাশের নামে নোংরা, অসভ্য আত্মপ্রচারের ঢক্কা নিনাদ চলছে। তাঁর জীবন ও সংগ্রামের ধারা থেকে শিক্ষা নেবার বা দেবার কেউ নেই। তাঁর মতো সহজ ও নিছক মধ্যবিত্তসুলভ জীবন আজ কোনো মন্ত্রী, এমপি যাপন করেন না। এমনকি বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও তাঁর চেয়ে অনেক বিলাসী জীবন যাপন করেন।
শুধু একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। কয়েকটি কর্পোরেট হাউসের মালিকদের হাতে দেশকে ছেড়ে দিয়ে, দেশের বাজার ও অর্থনীতিকে তাদের হাতে জিম্মি করে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার বেপরোয়া তাণ্ডবের মধ্যে দৃঢ়ভাবে অসাম্প্রদায়িক, আজীবন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই করা বঙ্গবন্ধুর কথিত অনুসারীদের বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করার নৈতিক অধিকার কি আছে? তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা, দুঃখী মানুষের জন্য তাঁর বজ্রকণ্ঠবাণী তো এখন কার্যত অপাংক্তেয় হয়ে পড়েছে। পরিশেষে শুধু তাঁকে উদ্দেশ্য করে তাঁর প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথের কথায় বলতে চাই- তোমার কথা হেথা/কেহ তো বলে না/করে শুধু মিছে কোলাহল/ সুধাসাগরের তীরেতে বসিয়া/পান করে শুধু হলাহল।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক; প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

পূর্ববর্তী নিবন্ধপতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধশিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাতকানিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার