ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ঢাকায়

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আবারও এসেছে ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালের পর এবার চতুর্থবারের জন্য সোনালি এই ট্রফি ঢাকায় পৌঁছালো। ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে ট্রফিটি বিশ্বভ্রমণে বের হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর এ বছরের ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে এবার এটি ঢাকায় এসেছে।

বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে বিশেষ বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটি পৌঁছায়। ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকাকোলা’এর অংশ হিসেবে আসা ট্রফির সঙ্গে ছিলেন ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। বিমানবন্দর থেকে ট্রফিটি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে ট্রফিটি হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এবার সাধারণ দর্শকদের জন্য ট্রফি উন্মুক্ত ছিল না। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। কেবল কোকাকোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের নির্দিষ্ট বিজয়ীরাই বিকালে ট্রফি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন।

দুপুর দেড়টা থেকে প্রদর্শনী শুরু হয়। বাফুফে ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মাত্র আধ ঘণ্টা ট্রফির সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ পান। এরপর সাধারণ দর্শক, কোকাকোলার আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমের সদস্যরা ছবি তোলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও গতকাল সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফি আসার সময় সেটিকে বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা গিলবার্তো সিলভার হাত ধরে আসা ট্রফিটি দেখে জামাল উচ্ছ্বসিত ছিলেন। আবেগে আপ্লুত জামাল বলেন, সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা ছিল একদম জোশ! আমি ভেবেছিলাম ট্রফিটা ছোট, কিন্তু সামনে থেকে দেখে বুঝলাম এটা বেশ বড়। খোঁজ নিয়ে জানলাম এর ওজন প্রায় চার কেজি এবং এটি সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।

জামাল মনে করেন, এই ট্রফি বাংলাদেশে আসা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ ফুটবলারদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। তার বিশ্বাস, ট্রফি দেখে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখবে। তিনি বলেন, আশা করি, যারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, তাদের জন্য এটি অনুপ্রেরণার উৎস হবে। যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের জন্য এই ট্রফি আরও প্রেরণাদায়ক হবে।

ট্রফি বরণ অনুষ্ঠানে জামালের সঙ্গে কথা হয়েছে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভার। ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুরের স্পন্সর কোকাকোলা। কোকাকোলা সূত্রে জানা গেছে, মোট ১২০০১৪০০ জন ট্রফি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭০০ জন কোকাকোলার ট্রফি ক্যাম্পেইনের বিজয়ী, বাকি ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে রোকনুজ্জামান কাঞ্চন, এবং বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে শেখ মোরসালিন ও জামাল ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজনই কোকাকোলার প্রচারণার অংশ ছিলেন।

প্রায় ১২ ঘণ্টার মতো ঢাকায় অবস্থানের পর ট্রফি বুধবার রাতেই কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ১৫০ দিনের দীর্ঘ সফর শেষ হবে মেঙিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে, যেখানে আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে মিয়ানমারের নাগরিকসহ আটক ২, অস্ত্র উদ্ধার