ফাইনালে আজ বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি

সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ এবং ভারত। নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ২.১৫টায় এ দু’দলের লড়াই শুরু হবে। রাউন্ড রবিন লিগে ভারতকে ২০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে রাউন্ড রবিন লিগে ভারতের বিপক্ষে সেই জয়টা আর মনে রাখতে চাইছেন না পিটার জেমস বাটলার। ওই জয় ভুলে যেতে চাইলেও প্রতিপক্ষের কৌশল রাখছেন ভাবনায়। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন সে অনুযায়ী। ফাইনালে আগের ওই জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে অর্পিতাআলপিদের। তবে অতীত প্রাপ্তির ঢেকুর তুলছেন না বাটলার। এই ইংলিশ কোচ ছক কষছেন নতুন ম্যাচের ভাবনা নিয়ে। তিনি গতকাল বলেছেন ‘আমার একটা মোটামুটি ধারণা আছে, তারা (ভারত) কীভাবে খেলবে, সে ইঙ্গিতটা পেয়েছি। আমি বলতে চাইছি, তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের সেরা মানে এবং সতেজ থাকতে হবে এবং বাস্তবিক অর্থে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যে ম্যাচ চলে গেছে, তা চলে গেছে। আমাদের এটিকে পেছনে ফেলতে হবে; এগিয়ে যেতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা ইতিবাচক মানসিকতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নই, আমরা অনেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছি। তিনটি ম্যাচ খেলেছি, চোট পেয়েছি, চোট কাটিয়ে মেয়েরা ফিরে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আবার ভারতের সাথে খেলা, আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আবার তাদের হারাতে হবে।’ বয়সভিত্তিক এই আসরটি বাটলারের কাছে অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী মার্চে উইমেন’স এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাবে দল। পোখারার আসরের পারফরম্যান্সের বিবেচনায় উঠতিদের এশিয়ান কাপের দলে রাখার বিষয়টিও ভাবনায় আছে কোচের। ‘নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে আমি সাতআটটি পরিবর্তন করেছিলাম। এরপর মেয়েদের বিশ্রাম দিয়েছি। এটি একটি স্কোয়াড দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা। আমার মনে হয়, আগামীকাল এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের একটি দুর্দান্ত ইঙ্গিত দেবেআসলে কোন খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে এবং কারা প্রস্তুত এশিয়ান কাপে যাওয়ার জন্য।’ বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ছয়বার মাঠে গড়িয়েছে। বাংলাদেশ চারবার এবং ভারত একবার এককভাবে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। ২০২৪ সালের আসরে যৌথভাবেও সেরা হয়েছিল দুই দল। অনূর্ধ্ব১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগের দুই আসরে দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ২০২১ সালে ভারতকে ১০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের সেই আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। অনূর্ধ্ব১৯ ক্যাটাগরির ওই দুটি আসরের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এবারই প্রথম নেপাল আয়োজন করছে বয়সভিত্তিক এই ক্যাটাগরির আসর। তবে দেশটির মাঠের কন্ডিশন নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ বাটলার। ফাইনালের আগে আরও একদফা মাঠ নিয়ে ক্ষোভ উগলে দিলেন তিনি। ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা যতটা সম্ভব অনুশীলন সীমিত রাখার চেষ্টা করেছি মাঠের কন্ডিশনের কারণে। আমি জানি অন্য দেশগুলোও মাঠ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যাই হোক, আমরা বেশ কিছু চোট পেয়েছি। আমার প্রথম এবং মূল লক্ষ্য হল ফিট খেলোয়াড়দের একটি দলকে মাঠে নামানো।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনাল সম্পন্ন
পরবর্তী নিবন্ধকর্পোরেট ফুটসালে অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতাল চ্যাম্পিয়ন