আফ্রিকান নেশন্স কাপের ঘটনাবহুল ও বিতর্কিত ফাইনালের দুই মাস পর, সেই সময়ের চ্যাম্পিয়ন সেনেগালের কাছ থেকে ‘ট্রফি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ শিরোপা লড়াইয়ের ফল পাল্টে এখন মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফাইনালে সেনেগাল জিতেছিল ১–০ গোলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য সমতার পর, অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে দর্শনীয় এক গোলে ব্যবধান গড়ে দেন পাপ গেয়ি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ে ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগার পর, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার; তবে এর আগেই বাজে ফাউলের বাঁশি। হেড করার আগে গেয়ি আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন। ধাক্কাটি যদিও তেমন জোরে ছিল না। খানিক পর যা বিতর্কের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আট মিনিট যোগ করা সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে কর্নার পায় মরক্কো, বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানে ফাউলের শিকার হন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াস। ভিএআরে কথা বলে মনিটরে নিজে দেখার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। কিন্তু সাইডলাইনে তাকে ঘিরে ধরে সবাই, ভিড়ের মাঝেই যাচাই করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এরপর দ্রুত সবকিছু ঘিরে ধোয়াশার জন্ম হয়। মাঠে কিছুক্ষণ সবার বিক্ষিপ্ত ঘোরাফেরার পর, সেনেগাল কোচ পাপ চাওকে তার খেলোয়াড়দের চলে আসতে ইশারা করতে দেখা যায়। ১৭ মিনিট অপেক্ষার পর তারা মাঠে ফিরে আসেন। নেওয়া হয় স্পট কিক এবং ব্যর্থ হন দিয়াস। পরে ৯৪তম মিনিটে ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে, ডি–বক্সে ঢুকেই বুলেট গতির কোনাকুনি শটে ‘জয়সূচক গোলটি’ করেন পাপ গেয়ি। কিন্তু এতদিন পর এসে সেটি আর জয়সূচক গোল রইল না। সিএএফের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনেগাল ‘ফাইনাল ম্যাচ বর্জন করেছে’ এবং ম্যাচের ফল ‘মরক্কোর পক্ষে ৩–০ জয়’ হিসেবে গণ্য হবে। আপত্তিকর ও অসুন্দর সব ঘটনায় ভরপুর ওই ম্যাচের পর আপিল করেছিল মরক্কোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই আপিলের ফলই এখন তাদের পক্ষে গেল। এতে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার মহাদেশ সেরার স্বীকৃতি পেল মরক্কো, ১৯৭৬ সালের পর প্রথম। আর দ্বিতীয়বার শিরোপাটি জিতেও এখন হাতছাড়া হয়ে গেল সেনেগালের। ২০২১ সালে প্রথম এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। তবে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের শিরোপা কেড়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেনেগাল। ফাইনালের দুই মাস পর এভাবে ফল বদলানোকে ‘অন্যায্য, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ বলছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করবে তারা। সেনেগালের মতে, সিএএফের এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। নিজেদের অধিকার ও সেনেগালের ফুটবলের স্বার্থ রক্ষায় ফেডারেশন খুব দ্রুত লুসানের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করবে। সিএএফের এমন সিদ্ধান্তকে অবিশ্বাস্য বলছেন সেনেগালের সাবেক কোচ লো হোয়া। ‘ফাইনালের দুই মাস পর এমন ঘোষণা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অনেক বছর ধরেই রেফারির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আসছে সিএএফ।’










