ফলাফল নির্ণায়কের ভূমিকায় লক্ষাধিক নতুন ভোটার

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ

ওমর ফয়সাল, সন্দ্বীপ | শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া। নিরলসভাবে মিছিল পথসভা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এসময় স্থানীয় সমস্যার বিষয়গুলোর সাথে সাথে জাতীয় বিষয়েও বক্তব্য রাখছেন তারা।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা পূর্ণ নির্বাচনে সন্দ্বীপ আসনে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮ জন। ১৮ বছর ব্যবধানে এ আসনে লক্ষাধিক ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০১ জন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ বছরের ব্যবধানে বেড়ে যাওয়া লক্ষাধিক এ নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে জয়পরাজয়ে নির্ণায়কের বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৮০ নম্বর চট্টগ্রাম৩ আসনে এবার নির্বাচন করছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন সিকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মো. মোয়াহেদুল মাওলা।

ভোটের রাজনীতিতে সন্দ্বীপ আসনে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকবেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা। তিনি ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি), ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনবারের এমপি। যদিও ২০১৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। অন্য প্রার্থীরা যেখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন সেখানে মোস্তফা কামাল পাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে জাতীয় সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। বলা যায়, সন্দ্বীপের নির্বাচনী মাঠ তার নখদর্পণে। তার হাত ধরেই সন্দ্বীপে বিএনপির রাজনীতি সর্বস্তরে বিস্তৃতি লাভ করে। বিগত দিনে সন্দ্বীপে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি আস্থাশীল। গণসংযোগকালে তিনি বিগত সময়ে সন্দ্বীপে সাবমেরিন ক্যাবেলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার জন্য তার ডিও লেটার প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মুহাম্মদ আলাউদ্দিন সিকদার যেকোনো নির্বাচনে এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য গণসংযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক এ সভাপতি। সন্দ্বীপের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিশেষ করে উন্মুক্ত নৌরুট ও নিরাপদ নৌ যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। গণসংযোগকালে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধসহ জেগে উঠা ভূমি ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।

এ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। যদিও সামাজিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকার কারণে নিউইয়র্কে সন্দ্বীপ কমিউনিটিতে ও সন্দ্বীপের আপামর জনসাধারণের কাছে তিনি পরিচিতি মুখ। এদিকে নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে গণসংযোগে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মো. মোয়াহেদুল মাওলা। আধুনিক সন্দ্বীপ গড়তে দিয়েছেন ১০ দফা সংবলিত ইশতেহার।

সমাজকর্মী খাদেমুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সন্দ্বীপে বেশকিছু অবকাঠামো পরিবর্তন হয়। বিশেষ করে উন্মুক্ত নৌরুট ঘোষণা, সন্দ্বীপকে উপকূলীয় নৌবন্দর ঘোষণা, ফেরি ও সি ট্রাক সার্ভিস চালু করা, সন্দ্বীপের প্রধান সড়ক প্রশস্থ করা, ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশসহ বেশকিছু অগ্রগতি সাধিত হয়। ফলে সন্দ্বীপের জনসাধারণ নির্বাচিত সরকারের কাছে এ সুযোগগুলো অব্যাহত থাকার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে দৃশ্য উন্নয়ন আশা করে। সেক্ষেত্রে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে এ বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে।

ইকবাল মালেক জানান, ২০০১ সাল থেকে এ আসনে বিএনপিজামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও দীর্ঘ ৩০ বছর পর পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। পোস্টাল ভোট, নারী ভোটার ও সংখ্যালঘু ভোটাররাই পার্থক্য গড়ে দিবে সন্দ্বীপ আসনে। সন্দ্বীপ আসন থেকে ৩১৭ জন মহিলা ভোটারসহ ৪ হাজার ৪৬৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাউজানে ধানের শীষের প্রচারণায় গিয়াস কাদেরের স্ত্রী-সন্তান
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে ৪ প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস