ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর বাজারসংলগ্ন রহমত বাড়িতে কৃষক মুহাম্মদ ইয়াকুবের পাতানো ফাঁদে আটকা পড়েছে একটি মেছো বাঘ। গতকাল সকালে তিনি ফাঁদে আটকানো বাঘটি দেখতে পান। ঘটনা জানাজানি হলে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। স্থানীয়রা প্রাণীটির আকার–আকৃতি ও আচরণ দেখে একে মেছোবাঘ ভেবে বিভ্রান্ত হন।
কৃষক ইয়াকুব জানান, প্রতিদিন রাতে আমার হাঁস–মুরগি খেয়ে ফেলছিল। তাই ফাঁদ পেতেছিলাম। সেই ফাঁদেই আজ প্রাণীটি ধরা পড়েছে। ইউপি সদস্য তহিদুল আলম বলেন, প্রাণীটি প্রাথমিকভাবে মেছো বিড়াল বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, প্রাণীবিদদের মতে, মেছো বাঘ (বৈজ্ঞানিক নাম: (Prionailurus viverrinus) একটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী। আকারে মাঝারি হলেও এটি জলজ পরিবেশে অভিযোজিত এবং মাছ শিকারে বিশেষভাবে দক্ষ। মূলত আর্দ্রভূমি, নদী–খাল, হ্রদ, বিলে বসবাস করলেও খাবারের সন্ধানে মাঝে মধ্যে লোকালয়ে চলে আসে। মেছো বাঘ অত্যন্ত লাজুক ও নিশাচর প্রাণী। এরা একাকী জীবনযাপন করে এবং মানুষকে এড়িয়ে চলে। প্রধান খাদ্য মাছ হলেও কাঁকড়া, ব্যাঙ, সাপ, ছোট ইঁদুর ও পাখিও শিকার করে থাকে। গত চার বছরে ফটিকছড়ির নাজিরহাট, এবিসি, আজমক্লাব, রোসাংগিরী ও আজিমনগর এলাকায় একাধিকবার মেছো বাঘ আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে এগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।