যুদ্ধের প্রভাবে চলমান সংকটে প্রয়োজনে আগামী মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে সমন্বয়ের চিন্তাভাবনা সরকার করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জরুরি জন–গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারদলীয় এমপি শওকতুল ইসলামের নোটিসের প্রেক্ষিতে করা প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গতমাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ায়নি। আগামী মাসে আমরা দামের উপর কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায় দাম বৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করব। খবর বিডিনিউজের।
গত ৩১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকার এপ্রিল মাসে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আগের পর্যায়েই রাখে। সে অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন–ইসরাইলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে প্রিমিয়াম ও ফ্রেট রেটে অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, বেড়েছে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। তার ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতেও সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রেখেছে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে সব জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। দেশীয় খনিজ সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে। অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্যও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গেল ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩১ জনকে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জ্বালানির মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার এবং পেট্রোল ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী।













