প্রৌঢ়ত্বে এসে যৌবনের রক্তক্ষরণে দুরন্ত অষ্টাদশ

তাহেরা বেগম | মঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

যৌবনটা যেন স্বপ্নের মতোই কেটে গেছে। সেই যৌবন দীপ্ত অষ্টাদশ কখন যে শুরু হল আর কখন যে শেষ হল তা বুঝাই গেল না। কিন্তু দুরন্ত অষ্টাদশ কখনো যেন শেষ হবার নয়। এ যেন ঠিক ক্ষ্যাপা বৈশাখের মত। কখনো শান্ত আবার কখনো দুরন্ত। গত নয় এবং দশ জানুয়ারি ২০২৬ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অষ্টাদশ ব্যাচের দুরন্তপনার এক মহোৎসব। অষ্টাদশ ছাড়িয়ে তারা কখন যে প্রৌঢ়ত্বের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে তা ভুলেই গেছে। কালের প্রৌঢ়ত্বের বুকে বহে যেন রক্তক্ষরণ।

প্রায় পাঁচশত ছুঁই ছুই অংশগ্রহণকারী বন্ধু ও বন্ধু পরিবারের সদস্য। ভেন্যু ছিল বান্দরবান। যেখানে ঢাকাচট্টগ্রাম কুমিল্লা কক্সবাজার নোয়াখালী থেকে বন্ধুরা এসে মিলিত হয়েছেন। বান্দরবান শান্ত মুগ্ধকর পার্বত্য জেলা। যা সবুজ পাহাড়, ঝরনা, আদিবাসী সংস্কৃতি, এবং এক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের জায়গা। সেটা হয়ে উঠেছিল দুরন্ত অষ্টাদশের দুরন্তপনায় অশান্ত। হোটেল হিলভিউ, হোটেল গ্রীনভ্যালি, হোটেলহিলটন, হোটেল ডিমোর যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে উঠেছিল। প্রতিটা কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ দায়িত্বে তাদের কর্তব্য পালন করেছেন। পরিবহন কমিটি, অভ্যর্থনা কমিটি, আপ্যায়ন কমিটি, অর্থ কমিটি, খাদ্য কমিটি, সাংস্কৃতিক কমিটি, সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সবাই ছিলেন ব্যস্ত। সাংস্কৃতিক কমিটির পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ছিল অনবদ্য। শুরুতে বন্ধু প্রসুনের মেয়ের দেশাত্মবোধক নৃত্য ছিল উপভোগ্য। পেশাদার শিল্পী ছাড়াও ১৮র বন্ধু তওফিক বাবু, ইকবাল মাহমুদ, পলাশ, শিমুলের গান মনোমুগ্ধকর ছিল। যৌবন বেলার বুকের ভেতর সযত্নে লালন করা নীরব ব্যথা, না বলা কথা যেন সবার অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে। গানের সাথে সাথে বন্ধুদের নৃত্য যেন হৃদয় ছুঁয়ে গেল। নৃত্যে অষ্টাদশীরাও পিছিয়ে ছিলেন না। প্রতিবারের মতো এবারও আমার একটা আবৃত্তি ছিল। এবার আর কাঁপা কাঁপা পায়ে স্টেজে উঠলাম না। যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করেছিলাম। বন্ধু শুভ্রা বিশ্বাসের উপস্থাপনা ছিল সুন্দর।

খাদ্য কমিটির আয়োজন এর কথা ভুলবার নয়। প্রতিবেলায় মাছ, মাংস, মুরগি, খাসি শুটকি, মুড়িঘণ্ট, জর্দা, কোল্ড ড্রিঙ্কস, কিছুই বাদ পড়েনি। এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তারা কিভাবে এত আয়োজন করলেন তা বোধগম্য নয়। বিকালে নাস্তায় চিতই পিঠা ঝাল ভর্তা ছিল অতিরিক্ত সংযোজন। এবার র‌্যাফেল ড্রয়ের কথা বলবো। ৫১ টি পুরস্কার সম্বলিত র‌্যাফেল ড্র। বন্ধু আখতারুজ্জামান এর সহযোগিতায় ডিজিটালপদ্ধতিতে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। আমরা স্কিনেই নাম্বারগুলো দেখছিলাম। সভাপতি বন্ধু শফিকের সাজিনাস হসপিটাল ছিল স্পন্সর।

বন্ধু সভাপতি শফিকের হসপিটাল থেকে মেডিকেল টিমও এসেছিল। তিনজন ডাক্তার এবং দুইজন নার্স ছিলেন। শেষ দিন চাঁদের গাড়ি করে মেঘলা ও নীলাচল ভ্রমণ ছিল আনন্দময়। সবশেষে ছিল গিফট বিতরণ। তিন সাইজের ট্রলি ব্যাগ সহ কম্বল, মাফলার, গেঞ্জি, শাল ছিল পুরস্কার। সবশেষে পাহাড়ের ওপারের মেঘের দেশের রঙিন জীবন ফেলে এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা কোলাহলপূর্ণ শহরের দিকে রওনা হলাম। জয়তু অষ্টাদশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলবণ আমদানি বন্ধ করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাচন ২০২৬: প্রশ্নও আছে, স্বীকৃতিও আছে