টেস্ট বা টি–টোয়েন্টিতে যেমনই হোক, এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমীহ করার মতো শক্তি হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। ধারাবাহিকতা, উন্নতির ছাপ, বিশ্বমানে ওঠার সম্ভাবনা কিংবা ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস, সবকিছু এই সংস্করণেই ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। পরপর দুটি আইসিসি টুর্নামেন্টে ভয়াবহ বাজে ক্রিকেট খেলে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও মিলছে না সাফল্য। সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার, ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হয়ে ওঠার যে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ, সেটি আপাতত মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১৪টি। পরাজয় ২৬টি। এই সময়ে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এত ম্যাচ হারেনি আর কোনো দল। অথচ এই সময়ে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে গত দুই বছরে ১৪ ম্যাচের ৬টি জিতেছে তারা। পাকিস্তানকে তাদের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। টেস্ট জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠেও। এছাড়া ঘরের মাঠে আছে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি। টি–টোয়েন্টিতে ৩৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় ২২টি। জয়–পরাজয়ের হিসেব একপাশে রেখে ওয়ানডেতে আইসিসি টুর্নামেন্টের হিসেব করলেও পাওয়া যাবে শুধুই হতাশা। ভারতে ২০২৩ বিশ্বকাপে আকাশচুম্বি আশা নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে যাত্রা শুরুর পর আসরের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়েছিল তারা। অন্য বড় দলের সঙ্গে লড়াই জমাতেই পারেনি তারা। এমনকি হেরে যায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও। ২০০৩ সালের পর সেবারই প্রথম তিনটির কম জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে বাংলাদেশ। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যাওয়া আগে অধিনায়ক শান্ত সরাসরিই বলে যান, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য তাদের। ওয়ানডে ক্রিকেট বলেই হয়তো কণ্ঠে জোর আর হৃদয়ে সাহস বেশি ছিল তার। কিন্তু গর্জন অনেক হলেও বর্ষণ হয়নি সামান্যও। হতশ্রী পারফরম্যান্সের ধারা ধরে রেখে দুই ম্যাচেই চুরমার তাদের সেই স্বপ্ন। ভারতের পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও পাত্তা পায়নি তারা। এ নিয়ে টানা তিনটি আইসিসি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে প্রথম পর্ব থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে শেষ দিক পর্যন্ত সেমি–ফাইনালের লড়াইয়ে ছিল দল। কিন্তু সবশেষ দুই আসরে সামান্যতম সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি তারা। ওয়ানডের এই ব্যর্থতা যে শুধু আইসিসি টুর্নামেন্টে তা নয়, ২০২৩ সাল থেকে ৯টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে মোটে তিনটি। এর দুটিই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এই সময়ে আফগানিস্তান ও নিউ জিল্যন্ডের বিপক্ষে দুটি করে সিরিজ হেরেছে তারা। ঘরের মাঠেও তাদের বিপক্ষে জিততে পারেনি। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ফিরতে হয় হোয়াইটওয়াশড হয়ে। এই সময়ে দলের পারফরম্যান্সে নেই উন্নতির ছাপ। ৪৩ ম্যাচে মাত্র ছয়বার তিনশ ছুঁতে পেরেছে তারা। এর তিনটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে বাজে বোলিংয়ের কারণে জিততে পারেনি বাংলদেশ। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে তাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এরই মদ্যে দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আছে একটি ম্যাচ। জয়ের একটি সুযোগ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই এখনও আছে তাদের। হতাশার আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্বাগতিক পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। ওই ম্যাচে জিততে পারলে সামনে তাকিয়ে নতুন শুরুর পথে কিছু প্রেরণার রসদ অন্তত মিলবে।