প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

চট্টগ্রামের ১০ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজবকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত সব প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে ১০ আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ (গতকাল) প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, তাঁরা সবাই এখন দায়িত্বশীল অঙ্গনের অংশ। তাই তাঁদের আচরণও হতে হবে দায়িত্বশীল।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থীরা যেভাবে আচরণবিধি মেনে চলছেন, সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত তাঁরা এই আচরণবিধি মেনে চলবেন। এছাড়া আমরা তাঁদের কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনাও দিয়ে দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক জানান, আগামীকাল থেকে (আজ) প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। লিফলেট বিতরণ করা যাবে, তবে তার নির্দিষ্ট আকার কী হবে এবং সেখানে কার ছবি থাকবেএসব বিষয় আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে এবং কয়টি মাইক ব্যবহার করা যাবে, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না। হোক তা মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, বাস কিংবা লঞ্চে। কোনো অবস্থাতেই শোডাউন করা যাবে না। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীদের পক্ষে কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাবেন, সে তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, ফেসবুক পেজসহ বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে তবেই প্রচারণা চালাতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামীকাল বা পরশু থেকে পোস্টাল ব্যালট আসতে শুরু করবে। প্রবাসীদের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম থেকে নিবন্ধিত হওয়ায় এখানেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর পোস্টাল ব্যালটগুলো জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ব্যালট ট্রেজারিতে প্রবেশ করবে। এ সময় প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে এজেন্ট উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের স্বাক্ষর, মোবাইল নম্বর ও এনআইডির কপিসহ তথ্য আগামীকালের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের সময় তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, চুয়েটসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। জেলা প্রশাসক আরও জানান, এ বিষয়ে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। কোনো গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে তা মোকাবিলা করা হবে, যাতে গুজব কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। তিনি বলেন, যারা গুজব ছড়াবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে : প্রেস সচিব
পরবর্তী নিবন্ধগুণ্ডামির কাছে মাথা নত করি না আমরা