ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির গতকাল তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকসহ চট্টগ্রামের তিন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এ কে এম ফজলুল হকসহ তিন প্রার্থীর আপিল শুনানি শেষে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
একই সাথে চট্টগ্রামের তিন আসনের তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল আবেদন মঞ্জুর (প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন) হয়েছে। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর উদ্দিন তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে চট্টগ্রামের ৪জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলটি (১৫৭/২০২৬ নং আপিল) প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এদিকে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। তার আবেদন আগামী ১৬ তারিখ শুনানি হবে।
আপিলেও যাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ বহাল : চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতার কারণে বাতিলই থাকছে। ফলে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে এ কে এম ফজলুল হকের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তার আপিল আবেদন নামঞ্জুর করে। এদিন ছিল আপিল শুনানির তৃতীয় দিন।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এ কে এম ফজলুল হক যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ত্যাগ করার কথা উল্লেখ করেন। হলফনামায় তিনি জানান, তিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।
তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ থাকলেও এর পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়, যা আপিলেও বহাল থাকল।
তাঁর আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সিনিয়র এ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন আপীলটি যথাযথ নিয়মে দায়ের করা হয়েছে এবং তাতে বিস্তারিত ভাবে সাংবিধানিক ও আইনি যুক্তিতর্ক উত্থাপন করা হয়েছে। তথাপি নির্বাচন কমিশন গতকাল সোমবার আপীলটি নামঞ্জুর করেছেন। আমরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করবো।
এছাড়াও চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার আপিল গতকাল শুনানি শেষে নাকচ (নামঞ্জুর) করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনের গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির গতকাল তৃতীয় দিনে চট্টগ্রামের তিন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন–চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান, চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনের নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নুরুল আবছার মজুমদার ও ১৬ বাঁশখালী আসনের গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ডা. একেএম ফজলুল হকের প্রার্থিতা সম্পর্কে বক্তব্য: নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন পত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপীল করেছিলেন চট্টগ্রাম ৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার এ কে এম ফজলুল হক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক চট্টগ্রাম– ৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার এ কে এম ফজলুল হক এর মনোনয়ন পত্র বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপীলের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সিনিয়র এ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন আপীলটি যথাযথ নিয়মে দায়ের করা হয়েছে এবং তাতে বিস্তারিত ভাবে সাংবিধানিক ও আইনি যুক্তিতর্ক উত্থাপন করা হয়েছে। তথাপি নির্বাচন কমিশন গতকাল সোমবার আপীলটি নামঞ্জুর করেছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিল হবে, এবং আমাদের ক্লায়েন্ট এর প্রার্থীতা বহাল হবে, কারণ এ আদেশটি সংবিধান এবং আরপিও এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। তর্কিত মনোনয়ন পত্র বাতিলাদেশটি বৈষম্যমূলকও বটে। কারণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী বিদেশী নাগরিকত্ব সমর্পন করার আবেদন করেই মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন এবং সেসব বাতিল হয়নি।
অতএব, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে এ প্রার্থীর প্রতিও ন্যায়বিচার ও সমান আচরণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য নির্বাচন কমিশন একই ভুল করেছে, সংবিধান ও আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান গুলোর কেবল আক্ষরিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। আমরা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দায়ের করবো। সকল কে ধৈর্যের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছি।












