প্রশ্নপত্র ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময়

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ আরো শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি গুরুতর অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। এসময় সাইবার অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবগণের সাথে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কঠোর তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নকল বা অবৈধ উপকরণ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রসচিবদেরকে এই বিষয়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্ত্রী প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন পর্যবেক্ষণ ব্যাহত না হয় এবং পরীক্ষার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে মনিটরিং করার বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এসময় শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা কোনো ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নায্যতা ও স্বচ্ছতার উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। আংশিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর প্রদান করতে হবে। তবে অযাচিতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানো যাবে না। এক্ষেত্রে খাতা মূল্যায়নে র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর কথাও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হয়। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নে ইনহাউস কোচিং চালুর ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং নির্ভরতা কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় কেন্দ্র সচিবগণের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামালখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকমান উদ্দিন লাহেড়ী, দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মহসিন ভূঁঞা এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মোহাম্মদ নুরুল হক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন। সভায় সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআবাসিক ভবনে ৩০ হাজার লিটার ভোজ্যতেল মজুত
পরবর্তী নিবন্ধঅর্থনীতিকে অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : অর্থমন্ত্রী