বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংশোধনী বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতায় আনা এসব সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দল সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার বলছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা সচল রাখা এবং দ্রুত নির্বাচনে যেতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ‘স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘জেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল, ২০২৬’ এবং ‘স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং কণ্ঠভোটে পাস হয়। খবর বিডিনিউজের।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলগুলো সংসদে তোলেন। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলক কম বিতর্কে পাস হয়।
পাঁচটি বিলেই প্রায় একই ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, পলাতক বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল, এখন সেগুলো আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে। সংসদে আলোচনায় তিনি বলেন, আইনগুলো পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে সরকার।
কী আছে সংশোধনীতে : আলোচনায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব আইনে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল, কারণ তখন স্থানীয় সরকারের বহু জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এখন সেই বিধানই আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানও বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ অংশ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল না। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, সংশোধনীগুলো স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচন পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো ধরে রাখার জন্য আনা হয়েছে।














