পটিয়ায় ওমান প্রবাসী স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী সামিয়া আকতার খুশি (২১)! গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণ খাইনের ৬নং ওয়ার্ডের জিয়াউদ্দীনের বাড়িতে। সামিয়া আকতার খুশির স্বামী জিয়াউদ্দীন ওমান প্রবাসী। তাদের পরিবারে ১ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২ বছর পূর্বে সামিয়া ও জিয়াউদ্দীন ভালোবেসে পরস্পরকে বিয়ে করেন। সামিয়ার বাপের বাড়ি সন্ধীপে। বিয়ের পর স্বামী জিয়াউদ্দীন ওমানে চলে যান। তার দ্বিতল বাড়িতে সামিয়ার শ্বশুর শাশুড়ি নীচ তলায় ও সামিয়া দ্বিতীয় তলায় তার কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিছুদিন ধরে তারা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়।
এরই জের ধরে গতকাল বিকেলে স্বামী জিয়াউদ্দীনের সাথে ভিডিও কলে কথা হয় স্ত্রী সামিয়ার। কথার এক পর্যায়ে স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহ নিয়ে তর্কার্তর্কির এক পর্যায়ে স্বামীকে ভিডিও কলে রেখেই স্ত্রী সামিয়া শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেছেন স্বামী।
এ সময় স্বামী জিয়াউদ্দীন ফোন কেটে পার্শ্ববর্তী মেহজাবিন নামের এক ভাবীকে দ্রুত ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান ভিতর থেকে দরজা বন্ধ। তখন সবাইকে নিয়ে দরজার হুক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং ঝুলানো অবস্থা থেকে তাকে দ্রুত নামিয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহত সামিয়ার বড় বোন সানজিদা আকতার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার বোনকে ফন্দি করে মেরে ফেলেছে। তার সুখ দেখতে পারেনি শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
জানতে চাইলে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নুরুজ্জামান বলেন, আত্মহত্যার ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার আত্মহত্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। তবে আইনগত ভিত্তির জন্য লাশের ময়না তদন্ত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। মেয়ে পক্ষ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ে এখনো সুরাহা হয়নি।