প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার

| বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

এক বছরে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেড়ে ২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে।

করবর্ষ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীদের মোট পরিসম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তাদের সম্পদ কত ছিল সেই তথ্যও দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবরণীতে তাদের আর্থিক, আর্থিক বহির্ভূত সম্পদ (ননফাইন্যান্সিয়াল), বিদেশে থাকা পরিসম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা। প্রধান উপদেষ্টার দেশের বাইরে সম্পদ থাকলেও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই বলে তুলে ধরা হয়েছে।

এক বছরের ব্যবধানে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদও ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৬ টাকা বেড়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৪ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকায়।

দীর্ঘদিন থেকে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল। ছাত্রজনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।

অন্তর্বর্তী সরকার পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা কোন প্রক্রিয়ায় আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন তা ঠিক করে একটি খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দেয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর আয়কর জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আয় ও সম্পদ বিবরণী দিতে হবে তাদের। এতদিন প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেননি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুদিন আগে এবার প্রথম তাদের সম্পদ বিবরণীর তথ্য প্রকাশ করল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রধান উপদেষ্টার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৩ টাকায়। আর্থিক বহির্ভূত সম্পদের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে হয় ২ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রধান উপদেষ্টার নামে বাংলাদেশে অবস্থিত সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাবও আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, তার বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। ২০২৪ সালে যা ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকা।

অপরদিকে প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নামে বিদেশে অবস্থিত কোনো সম্পদের তথ্য প্রকাশিত নথিতে দেখানো হয়নি। একইভাবে তার ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায়ের কোনো হিসাবও দেওয়া হয়নি। তালিকায় এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায় দেখানো হয়নি। অর্থাৎ দায়ের অংক অপরিবর্তিত থাকায় সম্পদ বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি মোট সম্পদের হিসাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত নথির ‘মন্তব্য’ অংশে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানত বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাওয়া শেয়ারসহ বিভিন্ন কারণে মোট সম্পদের পরিবৃদ্ধি হয়েছে। তালিকায় দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টার সম্পদের ক্ষেত্রে কোনো নতুন দায় যুক্ত হয়নি। ফলে আয় ও সম্পদের যে বৃদ্ধি হয়েছে, তা দায় সমন্বয়ের বাইরে থেকেই মোট সম্পদের হিসাবে যুক্ত হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউপদেষ্টাদের কার কত সম্পদ
পরবর্তী নিবন্ধভোটের ফল যাই হোক, জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন