সিজেকেএস ক্লাব সমিতি আয়োজিত মেয়র চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রথম জয় পেয়েছে অফিস দল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একাদশ (চসিক)। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ৬ষ্ঠ ম্যাচে তারা ২–১ গোলে কল্লোল সংঘ গ্রীণকে পরাজিত করে। কল্লোলের এটি টানা দ্বিতীয় পরাজয়। প্রথম খেলায় তারা এস এ ফ্যামিলি স্পোর্টসের সাথে ড্র করেছিল। তিন খেলা শেষে তারা মাত্র ১ পয়েন্ট পেয়েছে। তাদের আর একটি খেলা বাকি আছে। সেমিফাইনালে খেলার আশা তাদের অনেক ক্ষীণ হয়ে গেল। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন একাদশ ২ খেলা শেষে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে। এতে করে সেমিফাইনালে খেলার আশা তারা উজ্জ্বল করে তুলেছে। প্রথম খেলায় তারা এস এ ফ্যামিলি স্পোর্টস ক্লাবের কাছে হেরে গিয়েছিল। গতকাল কল্লোল গ্রীণ এবং সিটি কর্পোরেশনের খেলায় প্রথমার্ধ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রাণ। এ অর্ধে কোন গোল হয়নি। মাঝে মাঝে কিছু আক্রমণ হলেও তাতে কোন ব্যবধান গড়ে উঠেনি। তবে কল্লোলের আক্রমণভাগই বার বার সিটি কর্পোরেশনের রক্ষণভাগে হানা দিয়েছিল। যদিও এ থেকে কোন গোল আদায় করতে পারেনি তারা। সিটির রক্ষণভাগ প্রায়ই ঠেকিয়ে দেয় কল্লোলের আক্রমণগুলো। সিটি কর্পোরেশনের স্টপার ব্যাক আলমগীর এ ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখেন। এ অর্ধের ৪২ মিনিটের সময় কল্লোল গ্রীণ দারুণ একটা আক্রমনে যায়। গোলমুখে হেলালের শট সিটির শাদমান আলম রক্ষা করেন। পরবর্তীতে বল যায় কল্লোলের আবদুল আল নোমান দিপুর কাছে। তার ক্রস থেকে হাফিজুর রহমানের হেড সাইডবার ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। নিশ্চিত একটা সুযোগ নষ্ট হয় কল্লোল গ্রীনের।
গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলের আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা বেশ জমে উঠে। ৫৫ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে কল্লোলের হেলালের দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। পরমিনিটেই হাফিজের বাড়িয়ে দেয়া বল হেলাল বাইরে মেরে দেন। দু’মিনিট বাদে সিটির মুন্নার শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৬৩ মিনিটে মুন্নার সেন্টার কল্লোলের শাহ অলি উল্লাহ কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। প্রতি আক্রমনে উঠে সিটি কর্পোরেশন। কর্নার থেকে বদলি নিশানের হেড কল্লোল কিপার সালাউদ্দিন রক্ষা করেন। ৬৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় সিটি কর্পোরেশন একাদশ। তখন মাত্র বদলি খেলতে নামেন ফারুকুল ইসলাম আনন্দ। কর্নার থেকে বল পেয়ে তিনি তার প্রথম টাচেই ডান পায়ের প্লেসিং শটে কোনাকুনি গোল করে বসেন। সিটি কর্পোরেশন এগিয়ে যায় ১–০ গোলে। কল্লোল এরপর আক্রমণে যায়। কিন্তু বদলি বেলালের সেন্টারে হাফিজ পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। এরপরপরই গোলসংখ্যা দ্বিগুন করে সিটি কর্পোরেশন একাদশ। গোলমুখে তাদের শট কল্লোল কিপার সালাউদ্দিনের হাতে লেগে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে বক্সে থাকা মোহাম্মদ কাদিম বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন (২–০)। তিন মিনিট বাদে পেনাল্টি পায় কল্লোল সংঘ। বক্সে ফাউল করার কারণে রেফারী নাফিজ সরকার কল্লোলের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তা থেকে কল্লোলের সাদ বিন আলম গোল করে ব্যবধান কমান (২–১)। বাকি সময় কল্লোল গ্রীণের কয়েকটি আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে গেলে হার নিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে হয় তাদের। ম্যাচসেরা চসিক একাদশের মোহাম্মদ কাদিমের হাতে নগদ দুই হাজার টাকার প্রাইজমানি ও ক্রেস্ট তুলে দেন বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ও সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সহ সভাপতি শাহজাদা আলম, সদস্য সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ হেলাল, শওকত হোছাইন ও সিজেকেএস কাউন্সিলর গোলাম মহিউদ্দিন হাসান। এদিকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চট্টগ্রাম জেলা দলের খেলা থাকায় আজ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ টুর্নামেন্টের খেলা স্থগিত থাকবে। আগামী ১০ নভেম্বর দুপুর ২.৪৫ টায় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও এস এ ফ্যামিলি স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচ দিয়ে পুনরায় টুর্নামেন্টের খেলা মাঠে গড়াবে।










