প্রথমবার ভোট দিয়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস

জাহেদুল কবির | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০০ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ভোটকেন্দ্র তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকে। ভোটাধিকবার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তরুণতরুণীদের সারি ছিল চোখের পড়ার মতো। ভোট দেওয়ার পরে বুড়ো আঙুলে অঙ্কিত কালির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন অনেক তরুণতরুণী।

এসব তরুণের একজন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মিসকাত উদ্দিন চৌধুরী। প্রথমবার ভোট দেওয়ার জন্য কুমিল্লা থেকে গ্রামের বাড়ির হাটহাজারীর ফরহাদাবাদে এসেছেন তিনি। গতকাল ফরহাদাবাদ কোরানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রথম ভোট দেওয়ার অনুভূতি আসলেই অন্যরকম। নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি। পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছি।

রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা তরুণী জেরিন সুবাহ বলেন, প্রথম ভোট দেব, কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলাম। আজকে সকালে তাই আম্মুর সাথে ভোট দিতে এসেছি। এত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনগুলোতে মানুষ ভোট দেওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবে এবার তরুণ প্রজন্ম স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছে।

রাউজানের উত্তর দেওয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের রোদে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরোজ উদ্দিন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট মানে ছিল মারামারি হানাহানি। তবে এবার চমৎকার পরিবেশে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এভাবে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিতে পারব ভাবিনি। কারণ ভোটকেন্দ্রে প্রতিপক্ষের লোকজন ঝামেলা করেএটাই স্বাভাবিক। তবে এবার সেই ধরনের কিছু ঘটেনি। আমরা সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছি। আনোয়ারার দক্ষিণ ইছাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ভোট দিতে আসেন দুই বোন জামিলা রহমান চৌধুরী ও মাহদিয়াত রহমান চৌধুরী। তারা জানান, ব্যালট হাতে নেওয়ার পর অন্যরকম আবেগ কাজ করেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই প্রথম ভোট দিতে পেরেছি। ভোট আমাদের সকলের নাগরিক অধিকার। এত বছর সেই অধিকার থেকে দেশের অনেক মানুষ বঞ্চিত ছিল। ছাত্ররা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই নাগরিক অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই দায়িত্ববোধ থেকে ভোট দিতে এসেছি।

এদিকে গতকাল সকালে রাঙ্গুনিয়ার পৌরসভার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী নারীপুরষের দীর্ঘ সারি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তা করেন। বিশেষ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করে দেন।

এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার ঘাটচেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি ছিল বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার লতিকা রত্নম মান্না। তিনি বলেন, ৩ ঘণ্টায় ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন হাজারের অধিক।

উত্তর ঘাটচেক হাজী মো. ইব্রাহিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. নুরুল আবছার জানান, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রে ভোট পড়েছে চার শতাধিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের নির্বাচন অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে : কমনওয়েলথ
পরবর্তী নিবন্ধদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে : সিইসি