শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে চলছেন মো. জাহেদ উদ্দীন রানা। আর তার সেই সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের মেলঘর এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দীন ও রাজু আক্তার দম্পতির সন্তান জাহেদ উদ্দীন রানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার।
চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারলেও এরপর থেকে তিনি হাঁটাচলা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। স্কুলজীবনে মায়ের কোলে চড়েই তাকে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়েছে।
সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বর্তমানে তিনি খলিলমীর ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। রানার বাবা কামাল উদ্দীন একজন অটোরিকশা চালক। সীমিত আয়ে বাবা-মা ও ছোট বোনসহ চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অভাবের তাড়নায় রানার পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
নিয়মিত কলেজে যেতে না পারায় বাড়িতে বসে পড়াশোনার জন্য একজন গৃহশিক্ষক রাখতে হয়েছে, যার মাসিক বেতন তিন হাজার টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারটির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় চারটি লিখিত আবেদন নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হন জাহেদ উদ্দীন রানা। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘ সময় ধরে রানার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
তিনি আরও জানান, রানার অন্যান্য আবেদনও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসকের সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত রানা বলেন, “আগের জেলা প্রশাসকের সময়েও সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু সাড়া পাইনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আবেদন পাওয়ার দিনই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সত্যিই তিনি একজন মানবিক ডিসি।”
তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি পুকুরের পাশে হওয়ায় বন্যার সময় ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এ বিষয়ে একটি ওয়াল নির্মাণসহ চারটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন তিনি। “আশা করছি স্যার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন,”—বলেন এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।












