প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

| বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আনা মুলতবি প্রস্তাবে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। গতকাল বুধবার বিকালে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ৫টা ৪০ এর দিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। খবর বিডিনিউজের।

এদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে আনা মূলতবি প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত না পাওয়ার অভিযোগ তোলে বিরোধী দল। তাদের প্রস্তাব চাপা দিতেই একই বিষয়ে আরেকটি নোটিস আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ওয়াকআউটের আগে শফিকুর বলেন, আগের দিনের আলোচনায় তাদের নোটিসের বিষয় ছিল মূলত গণভোট এবং গণভোটের সংস্কারের যে প্রস্তাব গিয়েছিল এর আলোকে যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহ্বান সম্পর্কে। তিনি বলেন, আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি প্রস্তাবের জবাবে আমি বলেছিলাম, যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর যদি এইটাকে কেন্দ্র করে কোনো কমিটিবিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখব এবং একই সাথে বলেছিলাম যে সেখানে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেহেতু আমরা এখানে এসেছি সংকট নিরসনের জন্য, সংকট তৈরির জন্য নয়।

এরপর তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, কিন্তু যেহেতু এটা জন আকাঙ্ক্ষার বিষয়। গণভোটের বিষয় প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে আপনার মাধ্যমে প্রতিকার পাব এবং সিদ্ধান্তের জন্য আমি আপনাকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হলো কিনা আমি বুঝতে পারি নাই। এই বিষয়টা আপনার কাছ থেকে আমি স্পষ্ট জানতে চাই।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগের দিনের প্রস্তাবটি ছিল একটি মূলতবি প্রস্তাব এবং তা তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মূলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একটি জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর। অপরটি ছিল গ্রেনেড হামলা সম্পর্কিত। আরেকটি ছিল নুরুল ইসলাম মনির কোস্টগার্ড সম্পর্কিত। বছরের পর বছর চলে যায় কোন মূলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না সংসদে। স্পিকার বলেন, তারপরেও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে মূলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল। মূলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, যেই সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যায় সেটি নিয়ে মূলতবি প্রস্তাব হতে পারে না।

তবে বিরোধী দলকে আরও কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন স্পিকার। বলেন, আজকেও আপনারা যদি প্রয়োজন হয় সেই নোটিসটি সম্পর্কে যখন আলাপ আলোচনা করব আপনাদের আরো যদি বক্তব্য থাকে কথা বলার অবারিত সুযোগ আপনারা পাবেন। তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় সমস্যা, যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে আমরা আশা করি ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী দল মিলে খোলাখুলিভাবে কথাবার্তা বলে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সুযোগ আপনাদের রয়েছে। এটি মহান হাউজ অফ দি পিপল। আপনারাই ডিসাইড করবেন।

তবে এতে সন্তুষ্ট হননি বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রতিকার চেয়েছিলাম এ বিষয়টা কোনো দলের সাথে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলাম। এর স্বপক্ষে কথাও বলেছি ক্যাম্পেইন করেছি। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না এতে আমরা না এতে দেশবাসীর তাদের রায়ের প্রতিফলন হলো না মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধীদলে এ অপমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এজন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএখন পর্যন্ত ব্যবহারিক ক্লাস, পরীক্ষা ও উপস্থিতি নির্ণয় অনলাইনে কঠিন কাজ
পরবর্তী নিবন্ধ২৫ এপ্রিল ফটিকছড়ি আসবেন প্রধানমন্ত্রী