ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সকল ধরনের প্রচার–প্রচারণা বলতে গেলে আজই শেষ হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণার সময় রয়েছে প্রার্থীদের। এখন সর্বত্র শুধু ভোটের অপেক্ষা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোট কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রার্থী ও সমর্থকদের সকল ধরনের প্রচার–প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন। অবাধ–সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় চট্টগ্রামের প্রতিটি সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সকল নির্বাচনী সামগ্রী।
এদিকে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য এবার ভোট কেন্দ্র ও ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে কাজ করছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারেন–এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ৪০ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছেন। তারা গত শনিবার থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২ হাজার ০১টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণের জন্য ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ আজাদীকে বলেন, ব্যালট পেপারসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী সংসদীয় আসনগুলোর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। আগে নির্বাচনী প্রায় সামগ্রী চলে গিয়েছে। রোববার (গতকাল) ব্যালট পেপারসহ অবশিষ্ট নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৭ দিনের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ঘিরে ৮ থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। গত বুধবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে শেষ হয়ে আসছে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী–সমর্থকদের অপেক্ষার প্রহর; বহু প্রতীক্ষার ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে এখন সর্বত্র চলছে ভোটের হিসাব–নিকেশ। আগামী দুইদিন ভোটারদের মনজয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রার্থীসহ তাদের কর্মী–সমর্থকরা।
আগামীকাল ১০ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে প্রার্থীদের সকল প্রচার–প্রচারণা।
এদিকে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এঙিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধ সমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৩১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মিলে চট্টগ্রামে ১৪২ জন জুডিসিয়াল ও এঙিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থী: চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে এখন ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ৬৫৩টি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি সিএমপি’র ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার অধীনে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশি ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় কত সদস্য : প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার–ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার–ভিডিপির সংখ্যা ১০জন, গ্রাম পুলিশ থাকবেন ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড সদস্যরা থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র জারি অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে (জেলায়) প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ (অস্ত্রসহ), ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার, সহকারী সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, আনসার ১ জন, সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ এবং গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ।
মেট্রোপালিটন এলাকার ভোট কেন্দ্রে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ১জন অস্ত্রসহ, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ১জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। মেট্রোপালিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে থাকবে পুলিশ ৪ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার ১ জন (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার / সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০জন।












