চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দাবিকৃত পৌরকর পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের দাবি, চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর থেকে আগামী পাঁচ বছর বার্ষিক ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৮ টাকা করে পৌরকর পরিশোধ করতে হবে বন্দরকে। কিন্তু বন্দর ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব করে। এতে আপত্তি জানায় চসিক। ফলে পৌরকর ইস্যুতে ‘বিরোধ’ শুরু হয় দুই সংস্থার। এদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে চসিক ও বন্দরের সমন্বয়ে গত বছর একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি যৌথ সার্ভের মাধ্যমে বন্দরের সকল স্থাপনার ধরন ও পরিমাপ বিষয়ে একমত হয়। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই কমিটির সর্বশেষ সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১১ মার্চ বন্দরের বোর্ড সভায়ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. সামীমুজ্জামান একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে বলা হয়, ‘চসিকের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর থেকে পরবর্তী ৫ বছর বার্ষিক কত টাকা হারে পৌরকর ধার্য হবে এবং পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে অনুমোদনসহ নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো’।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, যৌথ সার্ভের মাধ্যমে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্দর সেটা চিঠি দিয়ে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে সিদ্ধান্ত চেয়েছে। মন্ত্রণালয় কর্পোরেশনের দাবিকৃত পৌরকর পরিশোধের সিদ্ধান্ত দিয়ে বন্দরকে চিঠি পাঠাবে। এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে প্রাপ্য পৌরকর পরিশোধের বিষয়ে তারাও একমত হয়েছেন। তারা বলেছেন, অযৌক্তিক কিছু করবেন না। আসলে কর্পোরেশনের আয়ের অন্যতম একটি খাত এ পৌরকর। বন্দর যদি কর্পোরেশনকে তার পাওনা না দেয় তাহলে কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় কমে যাবে। এর ফলে জনগণ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, বকেয়াসহ চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পৌরকর পরিশোধে গত বছরের ১০ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিল দেয় চসিক। এর মধ্যে নির্ধারিত হাল পৌরকর ধরা হয় ১৬০ কোটি ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এরপর ২৭ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে চলতি অর্থবছরের পৌরকর পরিশোধে আপত্তি জানায়। বন্দরের দাবি, চলতি অর্থবছরে পৌরকর খাতে কোনো বকেয়া নেই। এর প্রেক্ষিতে ১১ আগস্ট বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে চবকের বিভিন্ন স্থাপনা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানায় চসিক। এর প্রেক্ষিতে যৌথ সার্ভে করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যৌথ সার্ভেতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪৯১ বর্গফুট স্থাপনা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে আবাসিক স্থাপনা রয়েছে ১৭ লক্ষ ২৪ হাজার ১০৬ বর্গফুট। এছাড়া ১৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৭৯ বর্গফুট অনাবাসিক এবং ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬ বর্গফুট ইয়ার্ড ও স্টোরেজ রয়েছে। স্থাপনার বিপরীতে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং, পোর্ট ডিউটি, বার্থিং–আনবার্থিং, পাইলোটেজ, টাগবোট ও লেট ফি’সহ বিভিন্ন ভাড়া ও আয়ের ভিত্তি করে এবং বন্দরের সক্ষমতার উপরের বিবেচনা করেই চসিক ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পৌরকর নির্ধারণ করে।
এর আগে ২০১৭ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চসিকের প্রস্তাবিত পৌরকর ছিল ১৬০ কোটি ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যা চসিকের সাবেক মেয়র কমিয়ে ৫০ কোটি টাকা করে দেয়। কিন্তু বন্দর পরিশোধ করে ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ শতাংশ সারচার্জ মওকুফের সুবিধা নিয়ে পরিশোধ করে মাত্র সাড়ে ৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত চসিকের সাধারণ সভায় অনুমোদনও দেওয়া হয়।














