পৌঁছে গেল ব্যালট ছাড়া সকল নির্বাচনী সামগ্রী

পাঠানো হয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় মজুত রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যালটবক্স

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় স্বচ্ছ ব্যালট বঙসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী পৗঁছে গেছে। শুধুমাত্র ব্যালট পেপার ছাড়া। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগে ভাগেই নির্বাচনী এলাকা গুলোতে সহকারী রিটানির্ং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন লাগবে এমন ৪৫ রকমের আইটেম দুই দফায় নির্বাচনী এলাকা গুলোতে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ব্যালট পেপার যাবে ভোটের আগের দিন।

নির্বাচনী সরঞ্জাম : প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথের জন্য সুঁইসুতা, দিয়াশলাই, মোমবাতি, ব্যালট বাঙের লক, অমোচনীয় কালি, চটের থলি, লাল গালা, স্ট্যাম্প প্যাডের কালি, খাম, দাপ্তরিক সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, আঠা, চার্জার লাইট, স্ট্যাপলার মেশিন ও পিন, কার্বন কাগজ, ছুরি, স্টিলের স্কেল, সাদাকাগজ, কলম, গানি ব্যাগ, বড় হেসিয়ান ব্যাগ, ছোট হেসিয়ান ব্যাগ, সুপার গ্লু, কিংবা প্লাস্টিকের পাতের মতো ৪৫ ধরনের জিনিস লাগে। শুধুমাত্র ব্যালট পেপার ও স্ট্যাম্প প্যাড ছাড়া নগরীর ১০ জনসহ মোট ২৬ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়। ব্যালট পেপার ও স্ট্যাম্প প্যাড ভোটের আগের দিন সকালে যাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। তাদের তত্ত্বাবধানে রেখে এসব সরঞ্জাম নির্বাচনের আগে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরা এসব সরঞ্জাম বুঝে নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ আইটেম (নির্বাচনী সামগ্রী গুলো) গুলো পাঠানো হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী আজাদীকে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ব্যালট পেপার ছাড়া অন্যান্য সকল নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছে গেছে। ব্যালটবক্স সংশ্লিষ্ট উপজেলা গুলোতে আগে থেকেই মজুত রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আসন ভিত্তিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণ চলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রামের ব্যালট পেপার নির্বাচন কমিশন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে নগরীর ৫টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন বিভাগীয় কমিশনার, অপরদিকে জেলার ১০ আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম১১ বন্দরপতেঙ্গা আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র মাত্র ১১দিন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০জন। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে চট্টগ্রাম জেলায় গত শুক্রবার থেকে ৭১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬৫টি এবং বুথের সংখ্যা ১২০০১টি। ১৬ আসনে ভোট গ্রহণের জন্য লাগবে ১৯৬৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১২০০১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ২৪০০২জন পোলিং অফিসার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলপিজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাস সংকট
পরবর্তী নিবন্ধসেন্ট মার্টিনে শেষ হলো পর্যটক ভ্রমণ