পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহর ও গ্রাম

সরাতে কঠোর বার্তা সিইসির, রাজনৈতিক দলগুলোকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ at ৪:১১ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে শুরু করে অলিগলি এবং বিভিন্ন উপজেলায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার এবং বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। নানা সাইজের পোস্টারব্যানার হাতে মিছিলসমাবেশ করতেও দেখা যাচ্ছে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।

অথচ নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে এবার আগেভাগেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সিইসি। পোস্টার নিষিদ্ধ উল্লেখ করে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নিজ উদ্যোগে দলগুলোকে এখনই তা সরাতে হবে। অন্যথায় আমরা সহ্য করব না। অন্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ব এসবের বিরুদ্ধে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে কমিশন থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে পোস্টার লাগানো, ছাপানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা দলের প্রতীকসহ নিজেদের ছবি দিয়ে আগাম পোস্টার লাগিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সিইসি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব পোস্টার নিজ উদ্যোগে সরানোর জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

গত ১৩ নভেম্বর নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। আচরণবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, এখনই পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর। অথচ আমরা এটা নিষিদ্ধ করেছি। এগুলো সরাতে হবে। যারা লাগিয়েছেন, নিজে থেকে সরিয়ে ফেলবেন। এটাই হবে ভদ্র আচরণ। আর যেন কেউ না লাগান। যে দল এটা করবে না, আমরা মনে করব সে দলের নিয়ত সাফ না। আমরা এটা সহ্য করব না। বিধি ভাঙলে আমরা অন্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ব।

আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিল : নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করে দিতে পারবেএমন বিধান রেখে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ গেজেট প্রকাশ করেন।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, পোস্টারে প্রচারে নিষেধ, ব্যানার, বিলবোর্ড করা গেলেও তা হবে পরিবেশবান্ধব, করা যাবে না যানবাহন সহকারে মিছিল বা শোডাউন, মশাল মিছিল প্রভৃতি। আচরণবিধি ভাঙলে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল, অন্যান্য বিধি না মানলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং একই কারণে দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে।

আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্য সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে ইসি। এ লক্ষ্যে কমিশনের নির্দেশে সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসও চট্টগ্রামের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ থেকে শুরু সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্যানেল গঠনের কাজ গুছিয়ে নিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখতমে নবুওয়ত পরিষদের বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
পরবর্তী নিবন্ধহাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা