বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের ওপর সুই–সুতা, স্প্রিং, চুমকি, পুঁথি ও কুন্দন ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে রকমারি নকশা। এছাড়া জারদৌসি–কারচুপির নজরকাড়া কাজে তৈরি হচ্ছে শাড়ি, লেহেঙ্গা, সেলোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, বোরকাসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। গতকাল নগরীর ঝাউতলা–ওয়ারলেস এলাকার বিহারী পল্লীর বুটিকসের কারখানাগুলো এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে বিহারী পল্লির কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে কারখানাগুলোতে এখন কাজের প্রচুর চাপ। প্রতিটি কারখানাতে ৩–৪ জন কারিগর পালাক্রমে রাত–দিন কাজ করছেন। জর্জেট, শিফন, টিস্যু, সিল্ক ও বেলব্রেট কাপড়ের উপর সুই সুতার সাহায্যে জারদৌসি–কারচুপি কাজের মোহনীয় নকশা নিপুন হাতে ফুটিয়ে তুলছেন কারিগররা। বিভিন্ন ডিজাইনের মধ্যে বহুল প্রচলিত দুটি ডিজাইন হচ্ছে–কারচুপি ও জারদৌসি। এছাড়া ক্রেতাদের ডিজাইন করা নকশাতে কাজ করেন কারিগররা। ঝাউতলা বিহারী পল্লীর প্রবেশমুখে ডানদিকে মোহাম্মদ আকরামের কারখানা। ছোট একটি রুমে কাঠ দিয়ে অস্থায়ী ছাদ বানানো হয়েছে। সেখানে বসে কাজ করছেন দুইজন। এদের একজন আকরামের মেয়ে আসমা আকতার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের সময় কাজের চাপ বেশি। তাই বাবার কারখানায় কাজে সাহায্য করছি। সারা বছর কাজ থাকলেও এই সময়ের কাজের চাপ অত্যাধিক। আমরা দুই ভাই ও দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তারও আলাদা কারখানা আছে।
আকরামের কারখানা থেকে সামনে কিছু দূর যেতেই দেখা মিলল আনুষা বুটিকসের। কারখানার মালিক মোহাম্মদ শহীদ নিজেই কারিগরদের সাথে কাজ করছেন। শিফন কাপড়ের ওপর পুঁথি বসাতে বসাতে বলেন, কারখানায় কাজ গত বছরের তুলনায় কম। বিশেষ করে ভারতীয় পোশাকের সাথে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্প্রিং, চুমকি, পুঁথি, কুন্দনের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। সেই হিসেবে শ্রম দিয়ে লাভ করা যাচ্ছে না। তারপরেও কিছু করার নাই। কারণ ছোটবেলা থেকে এই একটা কাজই শিখেছি। তবে এখন নতুন কারিগর তৈরি হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কাজের পরিধি আরো সংকুচিত হয়ে যাবে।
ওয়ার্লেস সেগুন বাগান এক নম্বর এলাকার চয়েস কারচুপি হাউসে দেখা যায়, কারিগররা নানা ধরনের বাহারি নকশা করতে ব্যস্ত। কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে শিক্ষানবিশও আছেন অনেকে। এদের একজন মোহাম্মদ মুক্তার বলেন, আমার ভাইও এই কাজ করে। ছোটবেলা থেকে সুুই সুতার কাজ দেখে বড় হয়েছি। তখন মনের মধ্যে ঘুরপাক খেত–বড় হয়ে একদিন আমিও এই কাজ করবো। সেই ভালো লাগা থেকে এখন কারখানাতে কাজ করতে এসেছি। এক টানা বসে বসে কাজ করা আসলেই কষ্টদায়ক। কারণ এখানে সব কাজ খুব সুক্ষ্ম। মনোযোগ নষ্ট হলেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চয়েস কারচুপি হাউসে ৯ বছর ধরে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ সাদ্দাম। তিনি বলেন, আমি পেশায় আছি ২২ বছর হলো। ঈদের আগে সাধারণত আমাদের কাছে থ্রি–পিস, গাউন, ওড়না, শাড়ি, ব্লাউজের কাজই বেশি আসছে। মজুুরি কেমন পাওয়া যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সাপ্তাহিক মজুরি। সপ্তাহে ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পান এমন কারিগরও আছে। তবে এখন কারিগরের সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেকে এই কাজে আসতে চাচ্ছেন না।
অন্যদিকে মোহাম্মদ আফজাল নামের আরেক কারিগর বলেন, এ সময় চট্টগ্রামের অভিজাত শপিংমল মালিকদের থেকে প্রচুর অর্ডার আসতো। এখন সেটি আসছে না। তারা ইন্ডিয়ান রেডিমেড কাপড় নিয়ে আসছেন। ফলে এই কাজের চাহিদাও কমছে।












