নগরীর বন্দর এলাকায় বাসায় ফেরার পথে এক নারী পোশাককর্মীকে গলায় ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। তার নাম চাঁদনী আক্তার। গতকাল শনিবার বিকাল ৫টার দিকে বন্দর থানাধীন বাকের আলী টেকের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন চাঁদনীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিসৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনার দাকোপ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা চাঁদনী থাকতেন বন্দর থানার উষাপাড়া মাজার এলাকায়। কাজ করতেন ইপিজেডে এভারটোব বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায়। এদিকে গতকাল রাতে বন্দর থানা ধুমপাড়া এলাকা থেকে তার স্বামী সবুজ খন্দকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মনোমালিন্যের কারণে পরিকল্পিতভাবে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।
চাঁদনীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে জড়ো হন তার স্বজনেরা। স্বজনদের মধ্যে চাঁদনীর বোন কাজলও ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী সবুজ খন্দকারই চাঁদনীকে হত্যা করে পালিয়েছেন। তাদের মধ্যে কলহ ছিল। সবুজ খন্দকার নেশা করতেন। চাঁদনীকে প্রায় সময় মারধর করতেন। ২০২৩ সালের দিকে সবুজের সাথে চাঁদনীর বিয়ে হয় বলে জানান তিনি।
চাঁদনীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখে আমরা কয়েকজন এগিয়ে যাই। গলায়, হাতে ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশে একটি ছুরিও পড়েছিল। আমরা দ্রুত একটি সিএনজি টেঙিতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, আমরা যখন তাকে ধরাধরি করে সিএনজিতে তুলি তখন সম্ভবত ওই নারী মৃত ছিলেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান বলেন, ছুরিকাঘাতে এক নারীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে, স্বামীই চাঁদনীকে খুন করেছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান আজাদীকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে রাতে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। তারা একসঙ্গে থাকতেন না বলে জানান তিনি।