কক্সবাজারের পেকুয়ায় শিলখালী জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিচা এলাকার আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৪২) কে গ্রেপ্তার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে পেকুয়া থানার এসআই সুনয়ন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কক্সবাজারের পিটি স্কুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পেকুয়া থানা সুত্রে জানা যায়,শিলখালী ইউনিয়নের সেগুন বাগিচা এলাকায় গত বছর ১০ আগষ্ট গভীর রাতে নিজ ঘরে হত্যাকান্ডের শিকার হন জসিম উদ্দিন। সেলিনা আক্তারের সাথে একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের পরকীয়া সম্পর্কের কারণে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় । ঘটনার দিন রাতে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সেলিনা আক্তারের অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় স্বামী জসিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে।
প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্ত্রী সেলিনা আক্তার পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাককে বাঁচাতে ভিন্নভাবে সাজিয়ে পরের দিন নিজে বাদি হয়ে প্রতিবেশী ৪ জনের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন প্রতিবেশী মনছুর আলম ও জহির আলম কে আটক করে।
সে সময় সেলিনা আক্তার দাবি করেন প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী মনির ইসলামের মেয়ে উর্মির
সাথে সেলিনার মালেশিয়া প্রবাসী ছেলে ইফতেখারের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে উর্মির চাচা মনছুর আলম সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন গভীর রাতে ঘরে ঢুকে স্বামী জসিম উদ্দিনকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের সময় স্বামী জসিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য দেখে স্ত্রী সেলিনা আক্তার ভয়ে ঘরের অন্য রুমে লুকিয়ে পড়লে প্রাণে রক্ষায়। পরের দিন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দিনের লাশ উদ্ধার।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সুনয়ন বড়ুয়া হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে
ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যায়। তদন্তে জসিম উদ্দিনের হত্যাকান্ডে স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক আবদুল রাজ্জাকের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়।
ঘটনার এক মাস সাত দিন পর প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে নিহত জসিম উদ্দিনের বাবা মো. নুর আহমদ বাদি হয়ে সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি ও পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক সহ ৩জনের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ওই মামলায় দীর্ঘদিন সেলিনা আক্তার পলাতক ছিলেন।
এবিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, শিলখালী এলাকার স্বামী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সেলিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।












