পেকুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার এবং দ্বীনি শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করছে এডভোকেট ফিরোজ আহমদ চৌধুরী ফাউন্ডেশন। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন মসজিদ ও মক্তববিহীন এলাকায় ধর্মীয় চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
গতকাল সোমবার উপজেলার বিলহাচুরা এলাকায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দানকৃত ১ একর জমির ওপর একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা ওলামা দলের সভাপতি ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা আলী হাসান চৌধুরী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে মসজিদ ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, “গ্রামের সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে মসজিদমুখী করে তোলা, আখেরাতমুখী জীবন গঠন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি জানান, পূর্বপুরুষদের মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ফাউন্ডেশনটি কক্সবাজার জেলাজুড়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা স্থাপন, শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদরের পূর্ব বিলহাচুরা এলাকায় দীর্ঘদিন কোনো মসজিদ বা মক্তব না থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও মুসল্লিরা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দূরের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করাও অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে ১ একর জমি দান করে সেখানে মসজিদ ও দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে মেঘনা সোস্যাল হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। একই দিনে উপজেলার পূর্ব বাইম্যাখালী এলাকায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা সোস্যাল হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পেকুয়া উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য সচিব মাওলানা ছানাউল্লাহ, পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আবুল বশর, মাওলানা রফিক আহমদসহ স্থানীয় মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই মসজিদ নির্মিত হলে এলাকাবাসীর ধর্মীয় চর্চা বৃদ্ধি পাবে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য দ্বীনি শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।












