পেকুয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

পেকুয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৮ নভেম্বর, ২০২১ at ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরীর প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার (১৭ নভেম্বর) প্রতীক পেয়ে তিনি ব্যাপক শোডাউন করে এলাকায় আসেন তিনি।

জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর পেকুয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের দিন মগনামার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার রেজাউল করিম চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ চৌধুরীর নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাংক একাউন্ট যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় সাময়িকের জন্য অবৈধ ঘোষণা করলেও পরে তা পূরণ করায় সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।

কিন্ত এর পরদিনই একই ইউনিয়নের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ইউনুছ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট আপিল করেন।

৯ নভেম্বর দুপুরে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষ এস.এম শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ শুনানি শেষে পরিপত্র অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের আগে ব্যাংক হিসাব না খোলায় ইউনুছ চৌধুরীর দাখিলকৃত মনোনয়ন ফরম বাতিল ঘোষণা করেন।

এদিকে, এরই মধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে জেল থেকে ছাড়া পান আলোচিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ চৌধুরী। পরে জেলা নির্বাচন অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রীট দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ইউনুছ চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে তাকে মার্কা প্রদান করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেন।

রায় পেয়ে ইউনুছ চৌধুরী বিশাল বহর নিয়ে মগনামায় যান এবং সেখানে এক পথসভায় বক্তব্য দেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই পথসভায় মগনামা ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর ২ প্রার্থী শহিদুল মোস্তাফা চৌধুরী ও রিয়াজুল করিম চৌধুরী জেলফেরত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ চৌধুরীকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনুছ চৌধুরী বলেন, “সবসময় সত্যের বিজয় হয়। আজকে মগনামাবাসী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গত ৫ বছর ধরে আমি ও আমার পরিবার সহ মগনামার শত শত মানুষকে অত্যচার নির্যাতন করা হয়েছে। সর্বশেষ আমাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে মিথ্যা হত্যা মামলায় জেলে বন্দী করে মনোনয়ন বাতিল করে নানাভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছে। তার বিচার আমি মগনামাবাসীকে দিয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, “আশা করি ২৮ তারিখ তারা ব্যলটের মাধ্যমে এই বিচারের রায় দিবেন। আজকে আমি মগনামাবাসীর যে নিঃস্বার্থ ভালবাসা পেয়েছি তাতে আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম। আমি জীবন দিয়ে হলেও এই ভালবাসার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব।”

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও মগনামার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.রেজাউল করিম বলেন, “ইউনুছ চৌধুরীর মনোনয়ন বহাল রেখেছেন মাননীয় উচ্চ আদালত। আদেশের কপি পেয়ে তাকে ‘ঢোল’ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা নেই।”

পূর্ববর্তী নিবন্ধপুকুরে ভেসে উঠে ছোট্ট প্রিয়সীর দেহ
পরবর্তী নিবন্ধচেম্বার হাউজে আগুন