পেকুয়া থেকে চুরি হওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮০টি গ্যাস সিলিন্ডার চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। এ সময় চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিলিন্ডারগুলো উদ্ধার এবং জড়িত দুজনকে আটক করা হয়।
চুরির ঘটনায় জড়িত আটক দুজন হলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইলিয়াস (৪০) ও বায়েজিদ থানার জালালাবাদ এলাকার মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. কাউছার (৩৬)। জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি ছাদ খোলা ট্রাকে করে বাগেরহাটের মোংলা থেকে সিলিন্ডারগুলো রিফিল করে উখিয়া ক্যাম্পে নেওয়ার পথে পেকুয়ার চৌমুহনী ফিলিং স্টেশন এলাকায় চুরির ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, জাতিসংঘের অর্থায়নে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহৃত ৭০০টি রিফিল করা গ্যাস সিলিন্ডার একটি ছাদ খোলা ট্রাকে করে মোংলা থেকে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নেওয়ার পথে গাড়িটির চালক পেকুয়া চৌমুহনীস্থ ফিলিং স্টেশন এলাকায় যাত্রা বিরতি নেন। এ সময়চালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ির হেলপারের সহযোগিতায় ৮০টি সিলিন্ডার কৌশলে সরিয়ে চট্টগ্রামে এই আটককৃতদের হেফাজতে নিয়ে যায়। যাত্রা বিরতি শেষে গাড়ির ড্রাইভার হেলপারকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ হলে সিলিন্ডার গুনে দেখে। তখন চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গাড়ির হেলপার চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, আটককৃতরা চোরাই মালামাল গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ নুর নবী (২৩) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের কাছ থেকে কম টাকায় কিনে নিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের অর্থায়নে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার (যাহা বিক্রয় যোগ্য নয়) পেকুয়ায় যাত্রা বিরতির কোনো এক সময় কৌশলে গাড়ির হেলপারের সহযোগিতায় চুরির করে অন্য একটি গাড়িতে ট্রান্সফার করে নেয়। ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মতে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই এলাকা থেকে ৮০টি চোরাই সিলিন্ডির জব্দ করা হয়।
ওসি বলেন, ঘটনার বিষয়ে বেঙ্মিকো কোম্পানির এলপিজি ফ্যাক্টরি ‘টিএসএস লজিস্টিক লিমিটেড ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির প্রতিনিধি বাদী হয়ে পেকুয়া থানার মামলা দায়ের করেন। আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার মুলহোতা গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ নুর নবীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












