কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক নির্যাতনের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল রেখা (২০) ওই এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাসেল প্রকাশ রাসেল মিকারের ছেলে রাজিবুল ইসলাম রানার স্ত্রী। তিনি পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোঁয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
নিহতের বাবা জসিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার মেয়ের বিভিন্ন উপহার সামগ্রী নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যায়। তার দাবি, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বিভিন্ন সময় কাজল রেখা তার কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানাতেন।
শনিবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি। গত ২০২৫ সালে কাজল রেখার সাথে রানা বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাসের পার হতেই শ্বশুর বাড়ি থেকে মেয়েকে লাশ নিয়ে আসতে হলো।
স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।












