নগরীতে স্বামীর ইটের আঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল নগরীর ৪১ নং পতেঙ্গা ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়ায় ইফতারের আগ মুহূর্তে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিম গৃহবধূর নাম হালিমা আক্তার। তার স্বামীর নাম জহিরুল ইসলাম। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা তারা। তাদের ৪ বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর জহিরুল ইসলাম নিজে ৯৯৯–এ ফোন দিয়ে স্ত্রী হালিমা আক্তারকে খুনের বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গা থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, জহিরুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে থাকতেন। কয়েক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর পতেঙ্গা এলাকায় লেগুনা গাড়ি চালিয়ে সংসারের খরচ চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সময় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয় জানিয়ে এক স্থানীয় বলেন, পেঁয়াজু বানানো নিয়ে জহিরুল ও হালিমার মধ্যে ঝগড়া লাগে। ঝগড়ার একপর্যায়ে জহিরুল একটি ইট দিয়ে হালিমার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে হালিমা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হালিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। পেঁয়াজু বানানো নিয়ে ঝগড়া নাকি অন্য কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া সে বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা নানা কারণের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে কী নিয়ে জহিরুল ও হালিমার মধ্যে ঝগড়া হয়েছে সেটি তদন্তে উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, জহিরুল ও হালিমার পরিবারে পারিবারিক কলহ পুরানো। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া–বিবাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহম্মেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ইটের আঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঝগড়ার জেরে স্বামীই তার মাথায় এ আঘাত করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর স্বামী ৯৯৯ এ ফোন করে বলেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে খুন করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টিম গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারাণা করা হচ্ছে যে, পারবিারিক কলেহের জেরে হালিমার মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান ওসি মোস্তফা।












