চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ডায়ালোসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করা সেই মোস্তাকিমকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলাটির খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারী রিভিশন মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (৬ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. জেবুন্নেছা এই আদেশ দেন। নিম্ন আদালতের মামলার খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে মোস্তামিকমের করা ফৌজদারী রিভিশন মামলাটি গ্রহণ করে প্রতিপক্ষগণের প্রতি নোটিশ জারি এবং মূল নথি তলব করেছেন আদালত।
আগামী ২০ মার্চ মুল নথিসহ শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করা হয়। গত ৪ মার্চ নিম্ন আদালতের খারিজ আদেশর বিরুদ্ধে মোস্তাকিমের করার রিভিশন মামলাটি শুনানির জন্য ধার্য্য ছিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ঐ মামলাটি শুনানি হলেও পরবর্তী আদেশ জন্য রাখেছিলেন আদালত।
হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, নিম্ন আদালত কর্তৃক খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি রিভিশন ২০৩/২৪ মামলাটি গ্রহণ করে প্রতিপক্ষগণের প্রতি নোটিশ জারি এবং মূল নথি তলব করেছেন আদালত।
ভুক্তভোগীকে নির্যাতনের বিষয়টি পরিস্কার। বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টি এসেছে। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। মামলাটির তদন্তের সময় ভুক্তভোগীর ছেড়া পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়নি।
এই ঘটনা তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাননি বলে আদালতে রিপোর্ট দিয়েছেন সিআইডি। মামলাটির তদন্ত রিপোর্ট তড়িগড়ি করে জুনিয়র অফিসার দিয়েছে। পুলিশে হেফাজতের নির্যাতনের অভিযোগের পুলিশের বিরুদ্ধে মোস্তাকিমের করা মামলায় ঘটনার সত্যতা পায়নি বলে সিআইডি তদন্ত রিপোর্ট দিলেও। মোস্তাকিমসহ আন্দোলন করা অন্যান্য স্বজনদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলার তদন্ত রিপোর্ট এখনো আদালতে আসেনি।
মূলতঃ মামলার অভিযোগে বলা হয়, সৈয়দ মোস্তাকিম তার মাকে গত ৭ বছর ধরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করান। ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানো প্রতিবাদে আন্দোলন করেন তিনিসহ রোগীর স্বজনরা।
গত বছর জানুয়ারির ১০ তারিখ তারা চমেক হাসপাতালের প্রধান গেটে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন। পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ওসি নাজিম মোস্তাকিমকে গ্রেফতার করে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচে মারধর করেন।
পরে থানায় তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। মারধরের সময় এসআই আবদুল আজিজ মোস্তাকিমকে বলেন ‘ওসি নাজিম স্যারের সঙ্গে আর বেয়াদবি করবি?’ এ সময় ওসি নাজিম বলেন, ‘শালারে রিমান্ডে এনে থানায় পিটাতে হবে, তারপর বুঝবি পুলিশ কি জিনিস?’ এরপর থানায় মারধরের বিষয়টি ফাঁস করলে মোস্তাকিমকে ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
কিডনি ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোগীর স্বজনেরা আন্দোলনে পুলিশের সাথে আন্দোলনরতদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উল্টো গ্রেফতার মোস্তাকিমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তামিককে পাঠানো হয় কারাগারে।
পরে মোস্তাকিম কারাগার জামিনে মুক্তি পেয়ে তাকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানায় ওসিসহ ২ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন সৈয়দ মো. মোস্তাকিম। এই মামলায় মোস্তাকিম ও তার পরিবারেরকে নিরাপত্তার আর ঘটনাটি তদন্ত করতে সিআইডি কে নির্দেশ দেন আদালত।












