একসময় তারা ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কাজ শেষে একসঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি ও আমোদ–ফুর্তিতে সময় কাটাত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে তারা। সেই দ্বন্দ্বেরই জেরে গত শনিবার রাতে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার দুই কিশোর গ্রুপের সংঘর্ষে হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের কিশোর সাব্বির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা, বাড়িঘোনা ও মদুনাঘাট এলাকার কিশোরদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সাব্বির তার রাজমিস্ত্রি বাবার সঙ্গে কাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিত।
সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে হাটহাজারী থানাধীন পশ্চিম বাড়িঘোনা এলাকায় একটি ওরশ মাহফিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই অনুষ্ঠানে ভান্ডারি গানের আসরে একসঙ্গে নাচানাচির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় বাড়িঘোনা এলাকার কয়েকজন কিশোর সাব্বিরদের পক্ষে থাকায় প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যায়। এরপর উরকিরচর ইউনিয়নের আরেকটি ওরশে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সর্বশেষ গত শনিবার মাদার্শা গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি ওরশ মাহফিলে সাব্বির ও তার বন্ধুরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠান চলাকালে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাদের ওপর নজরদারি করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে সাব্বিররা দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে নদীর ঘাটে গিয়ে নৌকায় ওঠে।
এ সময় পেছন থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কয়েকজন কিশোর হামলা চালায়। হামলার মুখে আত্মরক্ষার্থে সাব্বিরসহ কয়েকজন নৌকা থেকে হালদা নদীতে ঝাঁপ দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাব্বিরের পরনে জ্যাকেট ও প্যান্ট এবং পায়ে জুতা ছিল। হামলার সময় তার মাথায় আঘাত লাগে বলেও জানা গেছে। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকেই সাব্বির নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনার পরদিন থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। স্থানীয় শতাধিক মানুষও তল্লাশি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবদুল মান্নানের একমাত্র ছেলে। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।












