গুলি বিনিময়ের পর পুলিশ অস্ত্র ও ইয়াবাসহ বড় সাজ্জাদের দুই অনুসারাীকে গ্রেপ্তার করেছে। নগরীর চালিতাতলীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি–বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, নগরীর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা তার ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদসহ কয়েকজন বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী বাজার সংলগ্ন আমিন উল্লাহ হাজী বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে–এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপির বিশেষ টিম ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা যৌথভাবে অভিযান চালায়।
রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি এসএমজি, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪৫৫ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি, ১৪টি শর্টগানের তাজা কার্তুজ ও একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি চাপাতি, একটি রামদা, তিনটি ছোরা, একটি কাঁচি, ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট, একটি পাওয়ার ব্যাংক, দুটি বডি ওর্ন ক্যামেরা, একটি ব্যাটারি চার্জার, একটি অস্ত্রের কিট বঙ, দুটি স্প্রে কিট, একটি লোহার বেসবল ব্যাট, একটি ড্রিল মেশিন, দুটি পলিথিন সিল মেশিন, একটি টুলবঙ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে জানায় পুলিশ। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে। গ্রেপ্তাররা হলেন মোহাম্মদ ইসতিয়াক হাসান ইমন (২৬) ও মো. জসিম (৩৫)। এদের বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়। তবে সাজ্জাদের ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ, কেইস ইকবালসহ আরো কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বায়েজিদ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর দাবি, গ্রেপ্তার দুজন সাজ্জাদের অনুসারী। তারা বেশ কয়েকজনের নামও বলেছেন। যারা এসব অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করেন এবং মাদক সেবনের জন্য সেখানে আসেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের মনে নিরাপত্তার আস্থা সৃষ্টির জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে তারা সফল হচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়েও তথ্য পাওয়ার কথা জানান তিনি। ঘোষণা দিয়ে নগর পুলিশের চালানো ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, এ অভিযানের কারণেই গতকাল ভালো একটি অভিযান চালিয়েছি। অভিযান চলমান আছে।











