মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া নয়, ইউক্রেনই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি আটকে রেখেছে। তার এ ভাষ্য কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের কথার সম্পূর্ণ বিপরীত। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো বারবারই বলে আসছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর দিক থেকে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। খবর বিডিনিউজের।
বুধবার ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনে প্রায় চার বছর ধরে চালানো বিশেষ সামরিক অভিযানের ইতি টানতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তুত। উল্টো ভ্লাদিমির জেলেনস্কির অবস্থানই বেশি ধোঁয়াশাপূর্ণ। আমার মনে হয় তিনি (রুশ প্রেসিডেন্ট) চুক্তির জন্য প্রস্তুত।
উল্টো ইউক্রেনই তেমন প্রস্তুত নয় বলে মনে হচ্ছে, বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আলোচনা এখন পর্যন্ত কেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেখা সবচেয়ে বড় স্থলযুদ্ধের মীমাংসা করতে পারছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট এক শব্দে জবাব দেন, জেলেনস্কি। ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ইউক্রেনের নেতার প্রতি তার হতাশা নতুন করে স্পষ্ট হল।
গত দুই বছরে দুই প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে প্রায়ই উত্থান–পতন দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রথম সাক্ষাতে জেলেনস্কির ওপর যতটা ক্ষেপে গিয়েছিলেন, সে তুলনায় সম্পর্ক এখন অনেকটাই স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। ওই সময় ট্রাম্প মার্কিন মিত্রদের তুলনায় পুতিনের আশ্বাস মেনে নিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন, যা কিয়েভ ও ইউরোপের একাধিক দেশ এমনকী রিপাবলিকানসহ মার্কিন অনেক আইনপ্রণেতাকেও হতাশ করেছিল। পুতিন পুরো ইউক্রেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতর থাকা ইউরোপের কিছু অংশ পুনর্দখলের পরিকল্পনা এখনও ছাড়েননি বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে বারবার সতর্ক করা হয়েছে বলে ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল রয়টার্স।
সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড ওই প্রতিবেদনের দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কয়েক দফা ব্যর্থ চেষ্টার পর সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আলোচনা কেন্দ্রীভূত হয়েছে যুদ্ধপরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে, যেন সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তির পর রাশিয়া ফের ইউক্রেনে আক্রমণ করতে না পারে। এদিকে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির জন্য ইউক্রেনকে তার পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস এলাকা ছেড়ে দিতে চাপ দিয়েই যাচ্ছে। দনবাসের সিংহভাগ অংশই এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে। মস্কো বারবারই বলছে, ইউক্রেন চুক্তিতে রাজি না হলে তারা সামরিক উপায়েই দনবাসকে মুক্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামপ্রতিক আলোচনাগুলোতে ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও নিবিড়ভাবে যুক্ত আছে। ওয়াশিংটনের হয়ে এসব আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।












