ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও একইভাবে ধরা হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও অভিযানের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। যদিও তিনি পুতিনকে নিয়ে খুবই হতাশ। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুতিনকে ধরার পরিকল্পনা নিয়ে ওই প্রশ্ন ওঠে। খবর বিডিনিউজের।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষমতা দেখিয়েছে তাতে বিশ্বে সবাই স্তম্ভিত হয়েছে। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এরপর ইঙ্গিত দেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রেও একই পরিকল্পনা করতে পারেন ট্রাম্প। তবে তাদের সেই বক্তব্যের পালে হাওয়া দেননি ট্রাম্প।
ইউক্রেইনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আগেই। ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নেওয়ার পর দেওয়া এক বক্তব্য সরাসরি নাম না নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, স্বৈরশাসকদের এভাবে শায়েস্তা করতে হলে এরপর কী করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র সেটি ভালই জানে।
জেলেনস্কির সেই মন্তব্য এবং ট্রাম্প কখনও পুতিনকে আটক করতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেবেন কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমি মনে করি না, সেটা করার প্রয়োজন হবে। আমাদের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক ভাল থাকবে। তবে আমি খুবই হতাশ। আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। আমি ভেবেছিলাম এটি (রাশিয়া–ইউক্রেইন) থামানো হয়ত তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধে অকাতরে দুই পক্ষের সেনাদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে তারা ৩১ হাজার মানুষ হারিয়েছে। তাদের অনেকেই ছিল রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত আমরা এটি মীমাংসা করতে পারব। যদি আমি এটি আরও দ্রুত বন্ধ করতে পারতাম! কারণ, অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই সেনা।












