রমজান শুরু হতেই নগরীর ইফতার বাজারে জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। সেই ভিড়ের মধ্যেই ৫৩ পদের বাহারি আয়োজন নিয়ে আলোচনায় এসেছে লালখান বাজারের পিটস্টপ রেস্টুরেন্ট। দেশি–বিদেশি স্বাদের সমন্বয়ে সাজানো এই মেনুতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে হালিম, ফিরনি, দই বড়া ও স্পেশাল লাচ্ছির।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলের আগেই কাউন্টারজুড়ে সাজানো মাটন, বিফ ও চিকেন হালিম, আখনি বিরিয়ানি, তান্দোরি, বিভিন্ন কাবাব, চাওমিন, স্প্রিং রোল, টেমপুরা, ফলের চাট, লুচি–পরোটাসহ অসংখ্য পদ। একই ধরনের ইফতার আয়োজন রাখা হয়েছে চকবাজার আউটলেটেও।
দামের দিক থেকেও রাখা হয়েছে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। মাটন হালিম কেজি ৯০০ টাকা, বিফ হালিম ৮০০, চিকেন হালিম ৭৫০ টাকা। ফিরনি কাপপ্রতি ৬০ টাকা, জালি কাবাব ৭০ টাকা পিস, পাকোড়া ২০ টাকা, পেঁয়াজু ও বেগুনি ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। স্পেশাল লাচ্ছি ও শাহী জিলাপিও রয়েছে চাহিদার শীর্ষে।
রেস্তোরাঁ সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত ইফতারের জন্য ৩৫০, ৪৬০ ও ৭০০ টাকার তিন ধরনের প্যাকেজ রাখা হয়েছে, প্রতিটিতে অন্তত দশ পদের খাবার। দলীয় আয়োজনের জন্য ৬৭০ থেকে ১১৫০ টাকার চারটি আলাদা মেন্যু রয়েছে, যেখানে ১৪ থেকে ২০ পদের খাবার মিলবে। বসে ইফতার করার জন্য প্লেটারভিত্তিক ব্যবস্থাও চালু আছে।
ইফতার কিনতে আসা আবু বক্কর বলেন, প্রতিবছর এখান থেকেই ইফতার নেন তিনি। বিশেষ করে মাটন হালিম ও স্পেশাল লাচ্ছির স্বাদ তাঁকে টানে। অন্য ক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুতির কারণে এই রেস্তোরাঁ বেছে নেন, আর কিছু আইটেমের দামও আগের তুলনায় কম মনে হয়েছে।
ম্যানেজার উদয়ন বড়ুয়া জানান, রোজাদারদের স্বাস্থ্য ও স্বাদের কথা মাথায় রেখে অর্ধশতাধিক আইটেম রাখা হয়েছে। নতুন হিসেবে যোগ হয়েছে চিকেন চিজ সমুচা, স্পেশাল বিফ তেহেরি, মেজবানি, বিফ ও মাটন পায়া, চিকেন সাসলিক ও সাতেই। প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করা হয়, অতিরিক্ত থাকলে পার্শ্ববর্তী মসজিদে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। ক্রেতাদের সামনে লাইভ জিলাপি তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রমজান যত এগোবে, ততই এই বাহারি ইফতার আয়োজনকে ঘিরে ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












